সরকারি ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে উত্তাল বনগাঁ। উত্তর কালোপুর পঞ্চায়েত এলাকায় এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল, কাপড়, চাদর এবং সাদা থান উদ্ধার হওয়ার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে দু’জনকে। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের নাম শংকর মণ্ডল। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণসামগ্রী বেআইনিভাবে নিজের হেফাজতে রেখে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে নেমে তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ১০০টি ত্রিপল উদ্ধার করা হয়।


শুধু শংকর মণ্ডলের বাড়ি নয়, তাঁর আত্মীয় নারায়ণ মণ্ডলের বাড়ি, সংলগ্ন কলাবাগান এবং চাষের জমি থেকেও কয়েকশো ত্রিপল, কাপড় ও চাদর উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি ত্রাণসামগ্রী সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর বদলে গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল। ফলে বহু প্রকৃত উপভোক্তা প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শংকর মণ্ডল। তাঁর দাবি, বনগাঁ পৌরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলরের কাছ থেকে ত্রিপলগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল। বর্ষাকালে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে দ্রুত বিতরণের উদ্দেশ্যেই সেগুলি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।


অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ আরও গুরুতর। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী ভবিষ্যতে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি পঞ্চায়েত বোর্ডে অস্থিরতার আশঙ্কায় রাতের অন্ধকারে ত্রিপল সরানোর চেষ্টাও চলছিল বলে অভিযোগ তুলেছে তারা।
পঞ্চায়েতের বিজেপি বিরোধী দলনেতার দাবি, বন্যা ও দুর্যোগের সময়ে সাধারণ মানুষ ত্রিপল চাইতে গেলে বলা হত মজুত নেই। অথচ সেই ত্রিপলই তৃণমূল নেতাদের বাড়ি এবং ব্যক্তিগত জমি থেকে উদ্ধার হয়েছে।
এছাড়াও উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সাদা থান ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই থান কাপড় অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি।
সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস, মজুতের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



