নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাড়িতে বসেই খেলে দিয়েছেন, বিপুল ভোট পড়ল কেষ্টর গড়ে, বীরভূমে ৭৩.৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে বেলা তিনটে পর্যন্ত। চমকে দেওয়ার মত এই ভোট শতাংশ দেখে ঘরে বসেই মুচকি হাসি দিলেন অনুব্রত মন্ডল। জানিয়ে দিলেন খেলা হচ্ছে, ভয়ঙ্কর খেলা হচ্ছে। এদিকে মালদহে ৭০.৮৫ শতাংশ, মুর্শিদাবাদে ৭০.৯১ ভোট পড়েছে। সব থেকে কম ভোট দিয়েছেন কলকাতাবাসী। বেলা ৩ তে পর্যন্ত মাত্র ৫১.৪০ শতাংশ ভোট পরেছে কলকাতায়।
আরও পড়ুনঃ হাতে ভোটার কার্ড, ২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট কক্ষে পৌঁছে বৃদ্ধ জানলেন তিনি ‘মৃত’!
রাজ্যে চলছ অষ্টম তথা শেষ দফার ভোট। উত্তর কলকাতা সহ মোট ৪ জেলার ৩৫ টি কেন্দ্রে চলছে ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত অশান্তির মাঝে ভোট দিচ্ছেন জনগন। গড়ে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। করোনার তীব্রতা এবং তীব্র দাবদাহ কে পাশ কাটিয়ে রেখেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন রাজ্যবাসী।
এদিকে রাজ্যের চার জেলার মধ্যে বীরভূমে সবথেকে বেশী সতর্কতা নিয়েছে কমিশন। কারন অনুব্রত মণ্ডল। ভোটের আগেই কমিশন-বাহিনীকে একযোগে গতকাল গোটা সকাল বীরভূম ঘুরিয়েছেন তিনি। আর সেই নিয়ে হুলুস্থুল কম পড়েনি গোটা বীরভূম জুড়ে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন অনুব্রত। তাঁর পিছনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের গাড়িও যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই রাস্তার মধ্যে অনুব্রতর গাড়ি গতি বাড়িয়ে বেরিয়ে যায়, ঠিক সেই সময়ে রাস্তায় অন্য গাড়ি এসে পড়ায় আটকে যায় কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি।
দুপুর ২টো নাগাদ অনুব্রতর খোঁজ মিলেছিলো তারাপীঠ মন্দিরে। আর তার পরেই ফের তাঁকে নজরবন্দি করেছিলো কমিশন। কমিশন যখন হন্যে হয়ে খুঁজছিলো অনুব্রতকে, তখন তিনি মিটিং করছিলেন সাঁইথিয়ায় দলীয় অফিসে। গিয়েছিলেন তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে। তারপর আর কনো রিস্ক নেয়নি নির্বাচন কমিশন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় নোটিস। আগামীকাল পর্যন্ত কড়া ভাবে নজরবন্দি থাকতে হবে তাঁকে।
এতকিছুর মধ্যেও নাকি খেলে দিয়েছেন অনুব্রত! অন্তত বিজেপি-র অভিযোগ তেমনই। কেন্দ্রিয় বাহিনী নাকি কিছুই করেনি! বিজেপির অভিযোগ বাড়িতে বসেই ভোট করিয়ে নিয়েছেন কেষ্ট! এদিকে খোঁজ পাওয়া গেছে নানুরের হারিয়ে যাওয়া বিজেপি এজেন্টের! বুথ থেকে বেরিয়েছিলেন কিছুক্ষণের জন্য। তার পর দীর্ঘ সময় ধরে বিজেপির দুই পোলিং এজেন্টের দেখা মেলেনি। অবশেষে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করা গেল দুই কিলোমিটার দূরের হাইওয়ে থেকে! বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ কর্মীদের নিরাপত্তা নেই।কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যর্থ, ব্যর্থ নির্বাচন কমিশনও।



