নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জর্জরিত বাংলা। শাসক দলের একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্য সহ অনেকেই এখনও জেলবন্দি। দুর্নীতির শিকড় খুঁজে বের করতে তদন্ত জারি রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা ইডি আগেই দাবি করেছে নিয়োগ কেলেঙ্কারির কালো টাকা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। সেই খরচ হয়েছে নগদে। এবার এনিয়েই প্রশ্ন উঠছে ভোটে খরচ হওয়া টাকার উৎস কী? ‘কালো’ টাকা দিয়ে ভোটের খরচ জোগানো হয়েছে। তবে কি ইডির তদন্তে উঠে আসতে পারে নতুন তথ্য!
আরও পড়ুন: ফের ভাঙড়ে নওশাদকে ঢুকতে বাধা পুলিশের, আদালতে সব বুঝে নেব হুঙ্কার ISF বিধায়কের
বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে বাংলায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পর তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ‘টাকার পাহাড়’ উদ্ধার করে ইডি। এরপর একে একে যতগুলি গ্রেফতারি হয়েছে, ধৃতদের বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা আদালতে দাবি করেছিল যে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সেই লেনদেনের হিসেব সামনে আনতে মরিয়া ইডি। তাঁদের ধারণা, রাজনৈতিক প্রচার সহ বিভিন্ন কার্যকলাপেও এই টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে যে টাকা ব্যবহার হয়েছে সেই নথিও তাঁদের কাছে রয়েছে।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুজনকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। তাঁদের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। ইডির দাবি, কুন্তল ও শান্তনুর কাছ থেকে কিছু নথি পাওয়া গিয়েছে যার থেকে প্রমাণ হয় যে চাকরি বিক্রির টাকা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। কুন্তল ঘোষ চাকরির টোপ দিয়ে ৩০ কোটি টাকা তুলেছিলেন। তার মধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দিয়েছিলেন বলে নিজেই স্বীকার করেছিলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা। কুন্তল, শান্তনু, অয়ন শীলের ১৫ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এছাড়াও পরিবার ও আত্মীয়দের নামে বিপুল সম্পত্তি কিনেছিলেন তাঁরা।

সম্প্রতি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে যুব তৃণমূলের সভানেত্রী তথা অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের। কুন্তল ঘোষের সঙ্গে তাঁর চ্যাট ইডির হাতে এসেছে। সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে তলব করে ইডি। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কুন্তলের সঙ্গে তাঁর লেনদেন হয়েছে কিনা তা জানতে চায় তদন্তকারীরা। দ্বিতীয়বার তলব করলে পঞ্চায়েতের প্রচারে ব্যস্ত থাকার কারণে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন।
নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকায় ভোট হয়েছে? ইডির তদন্তে আতশকাচের তলায় একাধিক প্রশ্ন




