পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সফর বা কনভয়ের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনওরকম বিঘ্ন যেন না ঘটে, সেই নির্দেশই প্রশাসনের শীর্ষস্তরে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। রাস্তা বন্ধ, দীর্ঘক্ষণ ট্রাফিক আটকে রাখা কিংবা বিশেষ সুবিধা— সবকিছুর বিরুদ্ধেই কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও কনভয়ের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ তৈরি হওয়া নতুন কোনও বিষয় নয়। তবে বর্তমান প্রশাসনের দাবি, সেই পুরনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।


মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, অতীতে ভিআইপি যাতায়াতকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ রাখা হত। অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত করা হতো। কোনও এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফর মানেই কার্যত স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও ছিল।
এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের সময় কোনও রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ রাখা যাবে না। কোনও সরকারি অনুষ্ঠান বা প্রশাসনিক কর্মসূচিকেও অযথা জাঁকজমকপূর্ণ করার প্রয়োজন নেই বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁর কনভয়ের জন্য ট্রাফিক সিগন্যালের স্বাভাবিক নিয়ম পরিবর্তন করা যাবে না। কোনও মোড়ে সিগন্যাল লাল থাকলে অন্য সাধারণ নাগরিকদের মতোই তাঁর গাড়িকেও অপেক্ষা করতে হবে। আইন সবার জন্য সমান— এই নীতিকেই গুরুত্ব দিতে চাইছে বর্তমান প্রশাসন।


সম্প্রতি কলকাতার রেড রোড সংলগ্ন এলাকায় এমনই একটি ঘটনার সাক্ষী ছিলেন প্রশাসনের একাংশ। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় দ্রুত এগিয়ে দেওয়ার জন্য এক পুলিশ আধিকারিক ট্রাফিক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের উদ্যোগ নিলে শুভেন্দু অধিকারী নিজেই গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন। পরে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে ডেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে তাঁর কনভয়ের ক্ষেত্রেও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করা যাবে না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র প্রশাসনিক নির্দেশ নয়, বরং জনমুখী রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে এমন ভিআইপি সংস্কৃতি থেকে সরে এসে প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার চেষ্টা হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।
এখন দেখার, এই নীতি আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য ভিআইপি ও প্রশাসনিক স্তরেও কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বার্তা স্পষ্ট— ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, সাধারণ মানুষের সুবিধাই প্রশাসনের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



