বারাণসী শহর থেকে সরবে ৪০০ মাছ-মাংসের দোকান, ৬ মাসের মধ্যে বড় পদক্ষেপ পুরসভার

পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন উন্নত করতে বারাণসী শহরের প্রায় ৪০০ মাছ-মাংসের দোকান শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শহরের পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল বারাণসী পুরসভা। আগামী ছয় মাসের মধ্যে শহর এলাকার সমস্ত মাছ ও মাংসের দোকান শহরের বাইরে স্থানান্তর করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন পুর কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বারাণসী শহরের মধ্যে আর কোনও মাছ বা মাংসের দোকান থাকবে না।

শনিবার মেয়র অশোক কুমার তেওয়ারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। শহর উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে একাধিক পরিকল্পনার পাশাপাশি মাছ-মাংসের দোকান স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুরসভার আধিকারিকরা।

- Advertisement -

পুর কমিশনার হিমাংশু নাগপাল জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে শহরের প্রান্তবর্তী পাঁচটি এলাকায় নতুন বাজার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রামনগর, সুজাবাদ, গণেশপুর, অবলেশপুর এবং শিবপুরে এই দোকানগুলি স্থানান্তর করা হবে। ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য স্থানগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বর্তমানে বারাণসী শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪০০ মাছ ও মাংসের দোকান রয়েছে। পুরসভার দাবি, এই দোকানগুলি শহরের স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনস্বাস্থ্যের মান উন্নত করাই মূল লক্ষ্য।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে গ্রাহক ও আয়ের উপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে উৎসব ও ধর্মীয় মরসুমে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন বাজারগুলির অবস্থান শহরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের কোনও অসুবিধা হবে না। বরং আরও সংগঠিত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে মাছ-মাংস বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে।

- Advertisement -

উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী সঞ্জয় নিষাদ এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এটি কোনও নিষেধাজ্ঞামূলক সিদ্ধান্ত নয়। বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসাকে আরও সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করে তোলার প্রচেষ্টা।

পুরসভার তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, শহর থেকে দোকান সরানো হলেও মাছ-মাংস বিক্রি বা ভোগের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে না। আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বারাণসীর নগর ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর