পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনা সমাবেশ, ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি? বাড়ছে জল্পনা

৩,৫০০ মার্কিন সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন, ইরানের কাছে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোয় স্থল অভিযানের সম্ভাবনা ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও ঘনীভূত। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের আবহে পশ্চিম এশিয়ায় বড়সড় সামরিক শক্তি জড়ো করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৩,৫০০ মেরিন ও নৌসেনা সদস্য নিয়ে USS Tripoli যুদ্ধজাহাজের আগমন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—স্থলপথে ইরানে আক্রমণের প্রস্তুতি কি নিচ্ছে পেন্টাগন?

 সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও প্রস্তুতি

United States Central Command (CENTCOM) জানিয়েছে, ২৭ মার্চ এই বিশাল বাহিনী তাদের দায়িত্বের এলাকায় পৌঁছেছে। প্রকাশিত ছবিতে স্পষ্ট, সেনারা পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতিতে রয়েছে।

এই নতুন বাহিনী পশ্চিম এশিয়ায় আগে থেকেই থাকা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে যোগ দেবে। ফলে গত দুই দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ বলে মনে করা হচ্ছে।

USS Tripoli-তে রয়েছে যুদ্ধবিমান, পরিবহণ বিমান, অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্টের সরঞ্জাম এবং উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা—যা সরাসরি স্থল অভিযানের সক্ষমতা নির্দেশ করে।

 আরও যুদ্ধজাহাজ, বাড়ছে চাপ

শুধু ট্রিপোলি নয়, USS Boxer-সহ আরও একাধিক যুদ্ধজাহাজ স্যান ডিয়েগো থেকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হয়েছে।

এই বাহিনীর সঙ্গে রয়েছে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট, যারা সম্প্রতি তাইওয়ানের আশপাশে মহড়া দিচ্ছিল। হঠাৎ নির্দেশে তাদের এই অঞ্চলে সরানো হয়েছে—যা পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরছে।

 কৌশলগত উদ্দেশ্য কী?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও The Wall Street Journal-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য হল প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে আরও বেশি সামরিক বিকল্প দেওয়া।

যদিও ট্রাম্প বারবার জানিয়েছেন, তিনি ইরানে স্থলযুদ্ধে যেতে চান না, তবু এই বিপুল সেনা মোতায়েন অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 সম্ভাব্য মোতায়েন এলাকা

সূত্রের খবর, এই বাহিনীর একটি বড় অংশ ইরানের উপকূলের কাছে এবং Kharg Island-এর আশপাশে রাখা হতে পারে। এই দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, ফলে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 ইরানের হুঁশিয়ারি

এই পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের সংবাদপত্র Tehran Times কড়া বার্তা দিয়েছে। তাদের শিরোনাম—“Welcome To Hell”। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, কোনও মার্কিন সেনা ইরানের মাটিতে পা রাখলে, তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

মার্কিন সেনা মোতায়েন, যুদ্ধজাহাজের সমাবেশ এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। এখনও পর্যন্ত স্থল অভিযানের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও, প্রস্তুতির এই মাত্রা নতুন করে আশঙ্কা তৈরি করছে—সংঘাত কি আরও বড় রূপ নিতে চলেছে?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর