রাশিয়ার তেল ছাড়ুন, শুল্ক কমবে—ভারতকে নতুন প্রস্তাব আমেরিকার! ভেনেজ়ুয়েলার তেলে কি পাকা হবে বাণিজ্যচুক্তি?

রাশিয়ার তেলের বদলে ভেনেজ়ুয়েলা থেকে আমদানি করলে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক কমতে পারে। সেই সঙ্গে পাকা হতে পারে ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে কি তবে বড়সড় মোড় আসতে চলেছে? রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ বা কমালে শুল্কছাড়—এই সমীকরণেই নয়াদিল্লির সামনে নতুন প্রস্তাব রাখল ওয়াশিংটন। সূত্রের দাবি, রাশিয়ার বদলে ভেনেজ়ুয়েলার তেল কেনার পথে হাঁটলে ভারতীয় পণ্যের উপর থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মার্কিন শুল্ক তুলে নেওয়া হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তিও চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সংবাদসংস্থা Reuters তিনটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসন ভারতের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে—রাশিয়ার তেলের বদলে ভেনেজ়ুয়েলা থেকে খনিজ তেল কিনলে ভারতীয় পণ্যের উপর চাপানো অতিরিক্ত শুল্ক কমানো হবে। বর্তমানে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে।

২০২৫ সালে পরপর দু’বার ভারতের উপর শুল্ক চাপায় আমেরিকা। প্রথমে ভেনেজ়ুয়েলার তেল কেনার অভিযোগে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। তার পর রাশিয়া থেকে খনিজ তেল আমদানির কারণে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়। এর জেরে ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যিক লেনদেন উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়।

তবে প্রশ্ন উঠছে—যে ভেনেজ়ুয়েলার তেল কেনার জন্য শুল্ক চাপানো হয়েছিল, সেই তেল কেনার প্রস্তাবই এখন কেন দেওয়া হচ্ছে? এর নেপথ্যে রয়েছে নাটকীয় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন। ২০২৫ সালের মার্চে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro-র উপর চাপ বাড়াতে বিভিন্ন দেশকে সে দেশের তেল না কেনার নির্দেশ দিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে অপহরণ করে বলে দাবি আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের। এর পর বিশ্বের বৃহত্তম তৈলভান্ডারের দেশ Venezuela-র তেল কার্যত আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে ভেনেজ়ুয়েলার তেল বিক্রি করতেই ভারতকে সামনে আনা হচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে শর্ত একটাই—ভারতকে কমাতে হবে রাশিয়া থেকে তেল কেনা। আমেরিকার যুক্তি, রাশিয়ার তেল বিক্রির রাজস্বই ইউক্রেন যুদ্ধের মূল অর্থের জোগান। সেই অর্থনৈতিক রসদ বন্ধ করতেই মরিয়া ট্রাম্প প্রশাসন। ভারতের মতো বড় ক্রেতাকে এই পথ থেকে সরানোই তাদের লক্ষ্য।

রয়টার্সের দাবি অনুযায়ী, India ইতিমধ্যেই রাশিয়ার তেল আমদানি ধাপে ধাপে কমানোর পথে হাঁটছে। জানুয়ারি মাসে দৈনিক প্রায় ১২ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল কিনলেও, ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ১০ লক্ষ ব্যারেলে নামতে পারে। মার্চে এই পরিমাণ ৮ লক্ষে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে তা দৈনিক ৫–৬ লক্ষ ব্যারেলেও নেমে আসতে পারে বলে সূত্রের ইঙ্গিত।

এই কৌশলগত বদলের নেপথ্যে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার তাগিদই কাজ করছে বলে দাবি কূটনৈতিক মহলের। যদিও এখনও পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাশিয়া, আমেরিকা ও ভেনেজ়ুয়েলার ত্রিকোণ সমীকরণে যে ভারতের জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, তা স্পষ্ট।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর