মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কি আরও ভয়াবহ মোড় নিতে চলেছে? ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঘিরে বাড়ছে জল্পনা। ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’—এই নীতিতে এবার সরাসরি সেনা নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন, এমন খবর সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
Donald Trump প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হিসেবে উঠে আসছে Kharg Island। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপই ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। সূত্রের দাবি, প্রায় ৫,০০০ মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে এবং অতিরিক্ত F-35 Lightning II যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মার্কিন কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে শুধু খার্গ দ্বীপ নয়, বরং Strait of Hormuz-এর উপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা। বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল পরিবহন এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই হয়। ইরান ইতিমধ্যেই এই পথে নিয়ন্ত্রণ কড়া করেছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
ইজরায়েলের এক আধিকারিকের দাবি, আমেরিকার এই সেনা মোতায়েন নিছক শক্তি প্রদর্শন নয়—বরং বড়সড় সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস। তাঁদের মতে, খার্গ দ্বীপ ইরানের হাতছাড়া হলে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক ধাক্কা লাগবে এবং তেহরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে।
তবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে Iran। ইরানের প্রতিরক্ষা পরিষদ স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের উপকূল বা দ্বীপে হামলা হলে পারস্য উপসাগর জুড়ে ল্যান্ডমাইন পেতে দেওয়া হবে এবং সমস্ত প্রবেশপথ বিপজ্জনক করে তোলা হবে।
খার্গ দ্বীপের গুরুত্ব অপরিসীম—ইরানের মোট তেল রপ্তানির সিংহভাগ এখান থেকেই হয়, দৈনিক প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল। পাশাপাশি এখানে রয়েছে বিশাল তেল সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। ফলে এই দ্বীপ হারানো মানে ইরানের অর্থনীতিকে কার্যত পঙ্গু করে দেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র আকাশপথে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় বুঝেই স্থল অভিযানের দিকে ঝুঁকছে আমেরিকা। তবে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—যার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের জ্বালানি ও ভূরাজনীতির উপর।



