মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা—আর সেই চাপ সরাসরি এসে পড়েছে আমেরিকার উপর। এমন পরিস্থিতিতে পাল্টা শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে United States। ইরানের বিরুদ্ধে আরও জোরালো সামরিক পদক্ষেপ নিতে ‘জলদানব’ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—যা এই সংঘাতকে আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
USS Tripoli (LHA-7)—মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী উভচর রণতরী—দক্ষিণ চিন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে তার গতিবিধি ধরা পড়েছে। অনুমান, ২২-২৩ মার্চের মধ্যেই এটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পৌঁছে যাবে।


এই বিশাল যুদ্ধজাহাজে প্রায় ২০০০ নৌসেনা মোতায়েন রয়েছে, এবং প্রয়োজনে ২৫০০ সেনা বহনের ক্ষমতা রাখে। ৮৪৪ ফুট দীর্ঘ এই রণতরীতে রয়েছে আধুনিক F-35B Lightning II স্টিলথ যুদ্ধবিমান, এমভি-২২ অস্প্রে এবং একাধিক অ্যাটাক হেলিকপ্টার। মূলত আকাশপথে হামলা ও দ্রুত সেনা নামানোর জন্যই তৈরি এই যুদ্ধজাহাজ।
Boxer-সহ বাড়ছে মার্কিন শক্তি
মোতায়েন রয়েছে USS Abraham Lincoln (CVN-72)।
ফলে একাধিক রণতরী মিলিয়ে প্রায় ৪,০০০ নৌসেনা, অসংখ্য যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার নিয়ে বড়সড় সামরিক শক্তি গড়ে তুলছে আমেরিকা—যা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বৃহৎ আক্রমণের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।


যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে
এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২৫% তেল সরবরাহ হয়। সেই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
ইরানের পাল্টা হামলায় একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ট্যাঙ্কারের ক্ষয়ক্ষতির কথাও সামনে এসেছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতেও বড় আঘাত হেনেছে Iran।
চাপে ট্রাম্প, উত্তেজনা বাড়ছে
এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। যুদ্ধংদেহি অবস্থান বজায় রাখলেও, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
সব মিলিয়ে, হরমুজকে ঘিরে এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়—গোটা বিশ্বের জন্যই এক বড় সঙ্কটের আকার নিচ্ছে।







