উচ্চ-প্রাথমিকে নিয়োগ চাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই হবে দাবি আদায়!

হবু শিক্ষকদের প্রতীক্ষার অবসান, সোমবার প্রকাশিত হচ্ছে উচ্চ-প্রাথমিকের ইন্টারভিউ লিস্ট।
হবু শিক্ষকদের প্রতীক্ষার অবসান, সোমবার প্রকাশিত হচ্ছে উচ্চ-প্রাথমিকের ইন্টারভিউ লিস্ট।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ উচ্চ-প্রাথমিকে নিয়োগ চাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই হবে দাবি আদায়! উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগ নিয়ে নজিরবিহীন অভিযোগ তুলল হবু শিক্ষকদের একটি সংগঠন। আপার প্রাইমারী আনট্রেন্ড ঐক্যমঞ্চ নামক সংগঠনের দাবি, “দীর্ঘ ৮ বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে আপার নিয়োগের ক্ষেত্রে একদিকে কমিশনের অনিহা এবং অন্যদিকে আপার চাকরি প্রার্থীরা নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী যে যার মতো করে চাকরি আদায় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দাবি- দাওয়ার উৎপত্তি ঘটিয়েছে আর সেইগুলিকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে শুরু হয়েছে বিরোধ, হিংসাত্মক ভাষায় আক্রমণ করা এবং নানা দলে বিভাজন এই দূর্বলতাকেই সুযোগ নিয়েছে অপদার্থ কমিশন।

আরও পড়ুনঃ হিংসার বাতাবরন তৈরি করছে CPM, বিজেপির অভিযোগে উত্তাল ত্রিপুরা।

বছরের পর বছর, তারিখের পর তারিখ কোর্টে আপার ঝুলে থাকার পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত মাননীয়া বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য আপার নিয়োগের ক্ষেত্রে দূর্নীতি পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে নতুন করে লিস্ট এবং ইন্টারভিউ নিয়ে আপার সম্পূর্ণ করার নির্ধারিত দিনক্ষণ বেঁধে দিয়েছিলেন কিন্ত যেই কমিশন দীর্ঘ ৮ বছরেও স্বচ্ছ লিস্ট তৈরি করতে ব্যর্থ তিনি এই কয়েকটা দিনে লিস্ট প্রকাশ করতে যে পারবেন না এইটা সকলের নিকট নতুন কিছু নয় বরং প্রকাশ করলে বিষয়টা অস্বাভাবিক হয়ে যেত। কমিশন পুনরায় নিজের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আরও ৪ সপ্তাহ সময় চেয়ে কোর্টে আপিল করেছে যাতে উনি অবমাননার কেসে না ঝুঁলে যান । তবে এখানে একটা বড়ো প্রশ্ন থেকে যায় অভিশপ্ত আপার থেকে কি বেকার চাকরি প্রার্থীদের মুক্তি নেই?? তারা আর কতদিন এই কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে বেঁচে থাকবে??”

সংগঠনের দাবি, উচ্চ প্রাথমিকে ৮ বছর ধরে নিয়োগ আটকে আছে ফলে নানারকম দাবির উদ্ভব হওয়াটা স্বাভাবিক তবে সেইগুলোর কতটা মেরিট আছে তা বিচার করার লোকের অভাব নেই । তাই ঐ সব বিষয়ে না গিয়ে দেখে নেওয়া যাক প্রার্থীদের বিচারে কি কি দাবি উঠে এসেছে সোস্যাল মিডিয়ায় এবং বিভিন্ন মুভমেন্টে
1) উচ্চ প্রাথমিকে সমস্ত টেট পাস ট্রেন্ড এবং আনট্রেন্ডদের চাকরি সুনিশ্চিত করতে হবে।
2) শূন্যপদ অনুযায়ী রেশিও অনুসারে ট্রেন্ডহীন শূন্যপদে আনট্রেন্ডদের সমসুযোগ দিয়ে নিয়োগ করতে হবে।
3)সিট আপডেট করে ভ্যাকেন্সি প্রকাশ করতে হবে।

4) যেহেতু ১০ বছর কোন শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হয়নি তাই ২০১৬ পর যাদের বি.এড ডিগ্রী আছে ,তারা পরীক্ষা দেওয়ার কোন সুযোগই পাননি তাই যে সব চাকরি প্রার্থীরা আপারের টেট পাস করে আছেন তাদের কোয়ালিফিকেশন আপডেট করে নিয়োগ করতে হবে।
5) মাননীয়া বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের অর্ডার অনুযায়ী কমিশনকে ৩১ জুলাই এর মধ্যে আপারের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।

চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে নানা দাবির বিভেদ থাকলেও এই মুহূর্তে সকলের প্রধান উদ্দেশ্য আপারে যেন তেন প্রকারেণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইন্টারভিউ শুরু করানো। যেহেতু কমিশন কোর্টে ১০ই মে তারিখ থেকে ৪ সপ্তাহের জন্য ছুটি চেয়েছিলেন সেই সময় মতো শেষ তারিখ ৭ জুন। কমিশন তারপরেও যদি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন পদক্ষেপ না নেয় তাহলে আপারের সমস্ত চাকরি প্রার্থীরা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে চলেছেন বলে খবর। কারণ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী নিজের রাজ্যে বসবাসকারি জনজাতিকে শিখিয়েছেন কোন কিছু দাবি আদায় করতে গেলে আন্দোলন ও ধরণাই একমাত্র পথ।

উচ্চ-প্রাথমিকে নিয়োগ চাই, তাই খুব দ্রুত আপারের চাকরি প্রার্থীরা সমস্ত বাঁধা এবং ভয়কে উপেক্ষা করে পথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। “আপার প্রাইমারী আনট্রেন্ড ঐক্যমঞ্চে” এর সভাপতি গার্গী মুদির দাবি, “কমিশন আপার নিয়োগের জন্য জীবনের মূল্যবান সময় অপচয় করেছেন এমনকি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেই চলেছেন তা সত্ত্বেও যদি কমিশন নোটিফিকেশনকে অমান্য করে অসচ্ছ লিস্ট বা যোগ্যদের বঞ্চিত করেন তাহলে সুবিচারের জন্য কোর্ট তো অবশ্যই যাবেন তার পাশাপাশি পথের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি নিজেদের নায্য অধিকার আদায় করার জন্য, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রত্যেক বছর নিয়মিত সচল রাখার জন্য, পরবর্তী প্রজন্ম ধংসের হাত থেকে বাঁচাবোর জন্য এবং নিজেদের হকের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পথে নামার। হোক আন্দোলন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here