নজরবন্দি ব্যুরোঃ কেক কেটে বঞ্চনার পঞ্চম জন্মদিন পালন উচ্চ প্রাথমিক হবু শিক্ষকদের। চাকরি ক্ষেত্রে রাজ্যের চরম অবস্থা অব্যাহত রয়েছে। গ্রুপ ডি ওয়েটিং থেকে আপার প্রাইমারী সব জায়গা থেকেই রয়েছে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ। স্কুল সার্ভিস কমিশন দীর্ঘ ৭ বছর আপার প্রাইমারি নিয়োগ সম্পন্ন না করে হাজার হাজার ছেলে মেয়ের জীবনকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হাইকোর্টে চলছে একাধিক মামলা। এদিন সেই চাকরিপ্রার্থীরা কেক কেটে, মোমবাতি জ্বালিয়ে উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা দেওয়ার পঞ্চম জন্মদিন পালন করলেন।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে অব্যাহত লাগামহীন সংক্রমণ, মৃত্যু। এক ধাক্কায় টেস্ট কমল ২ হাজার।


কেক কেটে বঞ্চনার পঞ্চম জন্মদিন পালন উচ্চ প্রাথমিক হবু শিক্ষকদের। উচ্চপ্রাথমিক হবু শিক্ষকদের দাবি, রাজ্য সরকার, শিক্ষা দপ্তর, SSC কমিশন কাছে আবেদন অতি দ্রুত গেজেট বিধি মেনে আপার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হোক। তাঁরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি; প্রথম ফর্ম ফিলাপ হয় ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৪। টেট পরীক্ষা হয় ১৬/০৮/২০১৫। TET রেজাল্ট বের হয় ১৪/০৯/২০১৬। ইন্টারভিউ শুরু হয় জুলাই ২০১৯। প্রভিশনাল মেরিট লিস্ট বের হয় কোর্ট অর্ডারে ০৪/১০/২০১৯ তারিখে। SSC কমিশন কোর্ট অর্ডার ২১ দিন অভিযোগ নেন ৫-২৫ অক্টেবর,২০১৯। এরপর দীর্ঘ ১১ মাস কেটে গেলেও নিয়োগ অধরা।
চাকরিপ্রার্থীদের সেইসব হাহাকার উড়িয়ে কদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন বেকারত্বের হার কমেছে ৪০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক যুব দিবসের দিন মুখ্যমন্ত্রী টুইটারে লেখেন, “আজ ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ডে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার যুবকদের ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক একটি নতুন স্কিম ‘কর্ম সাথী’ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। এক লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী কে স্বাবলম্বী করতে লোন ও ভর্তুকি সরবরাহ করা হবে।”
দ্বিতীয় টুইটে তিনি লেখেন, “যখন ভারতের বেকারত্বের হার ২৪ শতাংশ বেড়েছে; তখন পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে। বাংলা যুবক-যুবতীরা ভারতের হয়ে বহু জায়গায় নেতৃত্ব
দিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে আরও কাজ চালিয়ে যাবে।” উল্লেখ্য কদিন আগে ২১ জুলাই দলীয় ভার্চুয়াল সভা থেকেও মুখ্যমন্ত্রী একই দাবি করেছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন এই করোনা আবহেও রাজ্যে হ্রাসমান বেকারত্ব। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কথা উড়িয়ে তোপ দেগেছিলেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকুরিপ্রার্থী। ভার্চুয়াল সভার কমেন্ট বক্স ভরে গিয়েছিল বঞ্চনার আর্তনাদে।


কদিন আগে একই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে আক্রমণ করেন বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সরব হয়ে তিনি এদিন ট্যুইটে তোপ দাগেন। সরাসরি মমতা সরকার কে আক্রমণ করে তিনি লিখেছেন, “শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সরকারের এত ছল-চাতুরী কেন? বহু নিয়োগ আটকে। লক্ষাধিক তো বটেই। প্রাইমারি, আপার, মাধ্যমিক প্রত্যেক ক্ষেত্রেই।। শারীরশিক্ষা, কর্মশিক্ষা সহ অন্যান্য নিয়োগ বন্ধ কেন? সরকার তথ্য স্পষ্ট করুক।। মিথ্যাচার আর টাকার খেলা চলবে না। দ্রুত স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।”







