কেন্দ্রীয় বাজেট মানেই শুধু আয়–ব্যয়ের হিসাব নয়, রাজ্য–কেন্দ্র সম্পর্কের রাজনৈতিক বার্তাও। আর সেই সমীকরণে পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বাজেট পেশের আগে প্রশ্ন উঠছে—এ বার কি বাংলার জন্য আলাদা করে কিছু ঘোষণা করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী Nirmala Sitharaman? নাকি আবারও ‘বঞ্চনার’ অভিযোগে সরব হবে রাজ্য? বাজেট ঘোষণার আগেই এই প্রশ্ন ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা।
গত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে রাজ্য সরকারের অভিযোগ—বাংলার জন্য নির্দিষ্ট কোনও বড় প্রকল্প বা বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ বরাদ্দ করা হয়নি। রেল, জাতীয় সড়ক, আবাসন কিংবা সামাজিক প্রকল্পে বরাদ্দ থাকলেও, তা সরাসরি রাজ্যভিত্তিক ঘোষণায় প্রতিফলিত হয়নি বলেই দাবি তৃণমূল শিবিরের। ফলে এ বছরের বাজেটেও নজর থাকবে, বাংলার জন্য কোনও ‘স্পেশাল মেনশন’ আদৌ থাকে কি না।


অন্য দিকে, কেন্দ্রের যুক্তি একেবারেই ভিন্ন। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, বাজেটের কাঠামো রাজ্যনিরপেক্ষ। যে রাজ্য প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত ও স্বচ্ছ, তারাই বরাদ্দের প্রকৃত সুফল পায়। সেই যুক্তিতে শিল্প, পরিকাঠামো, রেল আধুনিকীকরণ ও কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পে যে বরাদ্দ ঘোষণা হয়, তার সুযোগ বাংলার কাছেও খোলা—শর্ত একটাই, কেন্দ্র–রাজ্যের সমন্বয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বারের বাজেটে যদি পরিকাঠামো ও শিল্পে জোর বাড়ে, তবে তার প্রভাব বাংলার অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে বন্দর-নির্ভর বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং পরিষেবা খাত উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক টানাপড়েন চলতে থাকলে সেই সম্ভাবনার বাস্তবায়ন কতটা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বাজেট ঘোষণার দিনই স্পষ্ট হবে—এ বার নির্মলার বাজেটে বাংলা পেল কতটা গুরুত্ব। উন্নয়নের অঙ্কে কি সত্যিই ‘দরাজ’ হবে কেন্দ্র, না কি রাজনীতি আবারও ছাপ ফেলবে অর্থনীতির উপর—সেই দিকেই তাকিয়ে বাংলা।









