বিহারের মতো ‘ঢালাও উপহার’-এর অপেক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ, ভোটের বছরে বাজেটে কি কি পেতে পারে বাংলা?

বিহার ভোটের আগে যেমন ঢালাও কেন্দ্রীয় ঘোষণা এসেছিল, তেমনি ভোটের বছরে পশ্চিমবঙ্গের জন্যও কি বিশেষ প্যাকেজ বা বড় প্রকল্পের ইঙ্গিত দেবে নির্মলার বাজেট?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাজেট যে রাজনৈতিক বার্তা দেয়, তা নতুন নয়। গতবার বিহারের বিধানসভা ভোটের আগে যেভাবে কেন্দ্রীয় বাজেটে ঢালাও ঘোষণা এসেছিল, এবার পশ্চিমবঙ্গের পালা কি? ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের নবম বাজেট ঘিরে সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়। বিহারমুখী বাজেটের নজির সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা—রবিবারের বাজেটে কি বাংলার জন্যও কোনও বড় ‘চমক’ লুকিয়ে আছে?

পরিসংখ্যান বলছে, গত দু’বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে সবচেয়ে বেশি লাভবান রাজ্য ছিল বিহার। ভোটের আগে শেষ বাজেটেই শুধু নয়, তার আগের বছরেও নির্মলার বাজেট ছিল কার্যত ‘বিহারময়’। একাধিক অবকাঠামো প্রকল্প মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ঘোষণা হয়েছিল। পটনা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ, নতুন বিমানবন্দর তৈরি, শিল্প ও পরিষেবা খাতে উন্নয়নের জন্য গ্রিনফিল্ড এবং ব্রাউনফিল্ড বিমানবন্দর, এমনকী মাখনা চাষিদের জন্য আলাদা বোর্ড—সব মিলিয়ে বিহার যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সে সময় বিহারে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি-জেডিইউ জোট। ভোটের পর ফের ক্ষমতায় ফেরে তারাই। অনেকের মতে, এই সাফল্যের পিছনে বাজেটের ‘ভোট-ভাবনা’ও একটি বড় ফ্যাক্টর। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জেডিইউ ও টিডিপি-র সমর্থনে সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটেই বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে বিশেষ নজর দেয় কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, ২০২৫ সালের বাজেটেও বিহারের পশ্চিম কোশী খাল সংস্কারে ১১,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, যার ফলে ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি জমির কৃষক উপকৃত হবেন বলে দাবি করা হয়েছিল।

এই নজির সামনে রেখেই এখন প্রশ্ন উঠছে—ভোটের বছরে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কি একই পথ নেবে কেন্দ্র? বিজেপির লক্ষ্য স্পষ্ট। দেড় দশকের তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করতে মরিয়া দিল্লির নেতৃত্ব। প্রকাশ্যে ‘২০০ পার’-এর স্লোগান না উঠলেও, ভোট শতাংশের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ৪৬ শতাংশ ভোট, কলকাতা ও শহরতলিতে ২৮টির মধ্যে অন্তত ২০টি আসন—লক্ষ্য নির্দিষ্ট।

শনিবার রাজ্যে কর্মী সম্মেলনে এসে শাহ স্পষ্ট বার্তাই দিয়েছেন—পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়লেই নরেন্দ্র মোদীর মুখে হাসি ফুটবে। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কী কী পরিবর্তন হবে, সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গেই উঠছে বাজেটের প্রশ্ন। শাহ ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছেন, তৃণমূল সরকারের রাজ্য বাজেটে উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মোট বাজেটের ২৫ শতাংশ পাওয়ার কথা থাকলেও উত্তরবঙ্গ পেয়েছে মাত্র ০.২৫ শতাংশ। বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গের বরাদ্দ ‘প্রাপ্যের চেয়েও বেশি’ হবে—এই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

ঘটনাচক্রে, শাহের এই অভিযোগের পরদিনই কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ। ফলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা—নির্মলার বাজেটে কি বিজেপি শাসিত বাংলার কোনও ‘পূর্বাভাস’ থাকবে? বিশেষ প্যাকেজ, রেল বা মেট্রো প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ, কিংবা কোনও বড় অবকাঠামো ঘোষণা—সব সম্ভাবনাই খোলা।

রাজ্য সরকার দীর্ঘ দিন ধরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে আসছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এই আবহে রবিবারের বাজেটে যদি বাংলার জন্য আলাদা কোনও বার্তা থাকে, তা হলে তার রাজনৈতিক তাৎপর্য হবে বিশাল।

এ বছর শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরিতেও বিধানসভা ভোট। অসম ও পুদুচেরিতে এনডিএ সরকার থাকলেও কেরল ও তামিলনাড়ু বিজেপিবিরোধী শিবিরের দখলে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনমুখী এই রাজ্যগুলির জন্য বাজেটে কতটা ‘ভোটের ছাপ’ রাখে মোদী সরকার। রবিবারের বাজেটেই তার উত্তর মিলবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত