২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এই নিয়ে টানা নবমবার বাজেট উপস্থাপন করলেন তিনি—স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে যা এক উল্লেখযোগ্য নজির। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, এ বারকের বাজেটের মূল চালিকাশক্তি দেশের যুবসমাজ, প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।
বাজেট বক্তব্যে জানানো হয়, ভারতের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা এসেছে। কৃষি উৎপাদনশীলতা বেড়েছে এবং সামগ্রিকভাবে ভারতীয় অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের দাবি, গত ১২ বছরে দেশের আর্থিক ভিত আরও মজবুত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে। বিদেশি ও দেশীয়—দুই ধরনের বিনিয়োগ টানতেই কেন্দ্র বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও দাবি করেন অর্থমন্ত্রী। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর নীতিতে দারিদ্র দূরীকরণ ও উন্নয়নকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
ভবিষ্যৎ অর্থনীতির কথা মাথায় রেখে বাজেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন কলেজ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এআই পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা তৈরি হয় যুবসমাজের মধ্যে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেটে মূলত ছ’টি থেকে সাতটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—MSME ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পোন্নয়ন। বিশেষ ভাবে বায়োফার্মা ক্ষেত্রকে আগামী দিনের ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
‘বায়োফার্মা শক্তি’ প্রকল্পে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি রেয়ার আর্থ করিডর তৈরি এবং তিনটি কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর লক্ষ্য—ভারতকে কাঁচামাল ও আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদনে স্বনির্ভর করে তোলা।
শিল্প ক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্য স্থির করেছে কেন্দ্র। ক্যাপিটাল গুডস সেক্টরে ভারতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দেশেই সব ধরনের যন্ত্রপাতি উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের রাস্তা খুলে দেওয়াই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
সব মিলিয়ে, এ বারের বাজেটকে ‘যুবশক্তি-চালিত বাজেট’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রযুক্তি, শিল্প, পরিকাঠামো ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার উপর জোর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিকাশের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্র।



