নজরবন্দি ব্যুরোঃ পুলিশের পোশাকে রাত ১ টা নাগাদ বাড়িতে ঢোকে চার জন। তিন তলার ছাদ থেকে ছাত্রনেতাকে ঠেলে ফেলে দিয়ে খুনের অভিযোগকে ঘিরে উত্তপ্ত আমতা। সূত্রের খবর, ছাত্রনেতার নাম আনিস খান। সারদা দক্ষিণ খাঁ পাড়ার ওই যুবক আইএসএফের কর্মী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে আমতা থানার বিরুদ্ধে। শনিবার সকালেই অভিযোগ দায়ের করতে যান আনিসের বাবা ও ভাই। খবর পেয়ে আনিসের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান নওশাদ সিদ্দিকি।
আরও পড়ুনঃ Deepika Padukone: বাবা প্রকাশ পাড়ুকোনের বায়োপিকে প্রযোজকের ভূমিকায় দীপিকা


ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির কথায়, তিনজন সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং একজন পুলিশ অফিসার এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বাড়ির তিন তলার ছাদে চলে যান তাঁরা। দুই তিন মিনিটের মধ্যে বাইরে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। জোরে শব্দ পেয়ে ছুটে যান বাড়ির লোক। তখন দেখেন ছেলে পড়ে রয়েছে। নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল কাজ হয়ে গেছে।
পরিবারের দাবী, রাত ১ টা নাগাদ পুলিশের পোশাকে চার জন এসেছিল। তাঁদের একজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। বলা হয়েছিল আনিসের নামে বাগনান থানায় কেস ছিল। বাবাকে ভয় দেখিয়ে আনিসকে নিয়ে তিনতলায় চলে যায় চার জন। তিন তলার ছাদ থেকে ঠিলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এলাকায় প্রতিবাদী ছাত্র যুবক বলেই পরিচিত আনিস।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় কোনওরকম টহলদারির কথা ছিল না। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির কথায়, আমতা থানার বড়বাবুর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। বড়বাবু জানিয়েছেন থানা থেকে কাউকে পাঠানো হয়নি। থানার অর্ডার ছাড়া কীভাবে এই কাজ করা হল? তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে জানিয়েছেন তিনি।


প্রতিহংসার কারণেই আনিসকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাম ছাত্র সংগঠন। এনআরসি এবং সিএএ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আনিস। তাঁকে সরিয়ে আন্দোলনকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছাত্রনেতাকে ঠেলে ফেলে দিয়ে খুনের অভিযোগ -এ আইএসএফের তরফে শনিবার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাসে মোমবাতি মিছিলের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
ছাত্রনেতাকে ঠেলে ফেলে দিয়ে খুনের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে নওশাদ সিদ্দিকি

একইসঙ্গে সরব হয়েছে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন,” আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আনিস খান। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতে থাকা সাম্প্রতিক আন্দোলনেও যুক্ত ছিল সে। এখনই একটি টিভি চ্যানেলের মারফৎ তার বাবার কথা শুনলাম। বাবার অভিযোগ, গতকাল রাতে বাগনান থানার নাম করে আনিসের আমতার বাড়িতে এসে কয়েকজন পুলিশ এসে আনিসকে ছাদ থেকে ফেলে মেরে দিয়েছে। যদি এ অভিযোগ সত্যি হয়, অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমরা আনিসের পরিবারের পাশে আছি”।







