ইরানের উপর আরও জোরালো হামলা করা হবে! তেহরান কে ‘হেরো’ ঘোষণা করে যুদ্ধহুঙ্কার ট্রাম্পের

ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাবি, আমেরিকা-ইজ়রায়েলের আঘাতে প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছে তেহরান।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের চাপের মুখে পড়ে প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে কার্যত ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে তেহরান। ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন আর পশ্চিম এশিয়ার শক্তিধর দেশ নয়। তাঁর কথায়, “ইরান আর পশ্চিম এশিয়ার ‘দাদা’ নয়, তারা এখন পরাজিতের দলে পরিণত হয়েছে।” ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের ধারাবাহিক সামরিক আঘাতের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলার পর ইরান নাকি পশ্চিম এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তাদের উপর আর হামলা চালানো হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনাই প্রমাণ করছে যে তেহরান কার্যত পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি আরও লিখেছেন, পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ নাকি আমেরিকার এই পদক্ষেপের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, আগামী বহু বছর ইরান আর আগের মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। তাঁর কথায়, “আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি একই থাকবে।”

ঘটনাচক্রে, শনিবারই প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। তিনি জানান, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সামরিক অভিযানে কোনও দেশ সরাসরি সাহায্য না করলে তাদের বিরুদ্ধে ইরান কোনও হামলা চালাবে না।

পেজ়েশকিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে মূল কারণ ছিল সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি। তিনি আরও বলেন, ইরান অযথা কোনও প্রতিবেশী দেশের উপর আক্রমণ চালাতে চায় না।

উল্লেখ্য, মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান বিভিন্ন দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বহু দেশই উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ইরানের এই পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ দেশগুলিকেও সংঘাতের মধ্যে টেনে আনছে।

তবে তেহরান এত দিন ধরে দাবি করে আসছিল, এই সংঘাতের সূত্রপাত করেছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। যদিও সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন