ট্রাম্পের ইউ-টার্ন, ‘সবসময়ই আমি মোদীর বন্ধু’, শুল্কযুদ্ধের মাঝেই সুর নরম

ভারতের ওপর বাড়তি শুল্ক চাপালেও নরেন্দ্র মোদীকে ‘মহান প্রধানমন্ত্রী’ বলে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক নিয়ে আশার বার্তাও দিলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক ঘিরে তুমুল টানাপোড়েনের আবহে হঠাৎই ইউ-টার্ন নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দিল্লির ওপর একের পর এক শুল্ক বোমা ফেললেও এবার তিনি স্পষ্ট জানালেন, “আমি সবসময়ই মোদীর বন্ধু।”

সম্প্রতি ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল, পরে আরও ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তোলে, ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন ভারত রাশিয়ার থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে। সেই কারণেই ভারতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে এই পদক্ষেপ।

ট্রাম্পের স্ববিরোধী মন্তব্যে বিস্ময়
শুল্ক বোমা ফেলার পরও ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। একদিকে তিনি ভারতের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, অন্যদিকে আবার জানিয়েছেন— “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমার খুব ভালো বন্ধু, একজন মহান নেতা।”

একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে লিখেছিলেন, হয়তো ভারতকে হারাতে হয়েছে অন্ধকার চিন ও রাশিয়ার কাছে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি আবার বলেন, “ভারত এবং আমেরিকা বিশেষ সম্পর্ক ভাগ করে নেয়। আমি সবসময় মোদীর বন্ধু থাকব।”

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করবেন? উত্তরে ট্রাম্প জানান, “আমি সবসময় থাকব, সবসময় মোদীর বন্ধু থাকব। তিনি দুর্দান্ত প্রধানমন্ত্রী। যদিও এই মুহূর্তে কিছু বিষয় আমার পছন্দ নয়, কিন্তু ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক ভাঙার নয়।”

এর আগে মার্কিন কমার্স সেক্রেটারি হওয়ার্ড লুটনিকও মন্তব্য করেছিলেন যে, ভারত কয়েক মাসের মধ্যেই মার্কিন চাপে ‘সরি’ বলবে এবং নতুন করে ট্রাম্পের সঙ্গে ডিল করবে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্টের নতুন বার্তা একপ্রকার আশার সঞ্চার করেছে কূটনৈতিক মহলে।

শুল্কযুদ্ধ নাকি কূটনৈতিক কৌশল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে বাণিজ্যিক চাপ তৈরি করা আর অন্যদিকে কূটনৈতিক মিত্রতার বার্তা দেওয়া— ট্রাম্পের এই দুইমুখো কৌশল আসলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অংশ। আমেরিকা চায়, ভারত রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওয়াশিংটনের দিকে ঝুঁকুক। আর ভারত চায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি চালিয়ে যেতে।

ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
ভারতের ওপর শুল্ক আরোপ নিয়ে আপাতত কোনও সমাধান আসেনি। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রমাণ করছে, দিল্লিকে হারানোর ঝুঁকি নিতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত নয়। বরং তিনি চাইছেন সম্পর্কের দ্বন্দ্ব কাটিয়ে মিত্রতার বার্তা দিতে।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, শুল্কযুদ্ধ যতই চলুক না কেন, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক ভাঙার নয়। আর ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে সেই আশার আলোই প্রতিফলিত হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর