বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। ‘বোর্ড অফ পিস’ নামে প্রস্তাবিত এক আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে। নয়াদিল্লিতে সেই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছালেও, এখনও পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ভারত কি এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে? আর করলে, তার মূল্য কতটা চড়া?
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে ‘বোর্ড অফ পিস’-এ প্রথমে তিন বছরের জন্য সদস্যপদ মিলবে। তবে তা স্থায়ী নয়। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থায়ী সদস্যপদ পেতে হলে ১০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা) অনুদান দিতে হবে। এই অর্থ কার্যত ‘শান্তির টিকিট’, যার বিনিময়ে কোনও দেশ এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর স্থায়ী সদস্য হতে পারবে।


হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যে সব দেশ শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির আদর্শে বিশ্বাসী, শুধুমাত্র তারাই ‘বোর্ড অফ পিস’-এর স্থায়ী সদস্যপদের যোগ্য বিবেচিত হবে। তবে এখানেই প্রশ্ন উঠছে নিরপেক্ষতা নিয়ে। কারণ, এই গোষ্ঠীর সর্বেসর্বা থাকবেন স্বয়ং ট্রাম্প। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, আমেরিকার ক্ষেত্রে এই ১০০ কোটি ডলারের নিয়ম কার্যকর নাও হতে পারে। শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী সদস্য হিসেবে থাকছে।
প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৬০টি দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ভারত ছাড়াও পাকিস্তান, হাঙ্গেরি, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, কানাডা, ইতালি, আর্জেন্টিনা, মিশর, তুরস্ক-সহ ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ। মূলত, যেসব দেশের সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ, তাদেরই এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। Associated Press জানিয়েছে, হাঙ্গেরি ও ভিয়েতনাম ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এর লক্ষ্য বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রথম ধাপে গাজ়া সংকট সমাধানের দিকেই নজর দেওয়া হবে। এরপর অন্যান্য আঞ্চলিক সংঘাত নিয়েও কাজ করবে এই গোষ্ঠী। কিন্তু এখানেই উঠছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই নতুন কাঠামোর সঙ্গে কি সংঘাত তৈরি হবে United Nations-এর? কারণ, বিশ্বে শান্তি রক্ষার দায়িত্ব এত দিন রাষ্ট্রপুঞ্জই পালন করে এসেছে। তা হলে আমেরিকার নেতৃত্বে নতুন করে এমন বোর্ড গঠনের প্রয়োজন কেন—এই প্রশ্নও কূটনৈতিক মহলে জোরালো হচ্ছে।


সব মিলিয়ে ভারতের সামনে এখন একাধিক সিদ্ধান্তের রাস্তা। ট্রাম্পের প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কি না, আর গ্রহণ করলেও ১০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে স্থায়ী সদস্যপদে আগ্রহ দেখাবে কি না—সেই দিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক রাজনীতির।








