যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণ নেই। বরং অনিশ্চয়তা বাড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী অশোধিত তেলের দাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত থাকায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে।
শুক্রবারের বাজারদরে দেখা গেছে, Brent Crude ফিউচার্সের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৯৬.৭৫ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ০.৮৭ শতাংশ বেশি। একইভাবে West Texas Intermediate (WTI)-এর দামও বেড়ে ৯৮.৯১ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১.০৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে।
এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে হরমুজ় প্রণালীর পরিস্থিতি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই রুটের উপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সামরিক পদক্ষেপের জেরে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেয়, যার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক বাজারে। মার্চ মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২০ ডলার ছুঁয়ে যায়।
পরবর্তীতে United States এবং Iran-এর মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনলেও, সেই স্থিতি খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গত দু’দিনে পরিস্থিতি ফের জটিল হয়েছে। বিশেষ করে Saudi Arabia-এর জ্বালানি পরিকাঠামোয় নতুন হামলার খবর বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে Donald Trump-এর মন্তব্যও পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও ইরানের আশপাশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে তেলের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ সংস্থাগুলির পূর্বাভাস, উত্তেজনা কিছুটা কমলেও তেলের দাম ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি ফের খারাপ হলে তা ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।



