নজরবন্দি ব্যুরো: এখনকার দিনে ব্যস্ততা যেন মানুষকে গ্রাস করেছে। সারাদিনের কাজের ফাঁকে একবার হলেও নির্জন, নিরিবিলি কোনও জায়গায় পালিয়ে যেতে ইচ্ছে হয়! ছুটির দিনগুলো বাড়ি বসে কাটাতে চাইছেন না। তবে ঘুরে আসতে পারেন কাছাকাছি এই গ্রাম থেকে। প্রকৃতি ধরা দেবে আপনার হাতের মুঠোয়। চোখের সামনে দেখতে পাবেন এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য। কোথায় সেই গ্রাম, কীভাবে যাবেন, জেনে নিন এই প্রতিবেদনে।
আরও পড়ুন: দিন কয়েকের ছুটিতে ঘরে বসে থাকবেন কেন? ঘুরে নিন এই জায়গাগুলি


আজকের গন্তব্য রিকিসুম। কালিম্পংয়ের কাছে এই ছোট্ট জনপদ বিগত কিছু সময়ের মধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নিরিবিলি এই গ্রামে তাপমাত্রা যেমন মনোরম, নৈসর্গিক সৌন্দর্যও তেমনই অপরূপ। ভোর হলেই পাইন, ফার, বার্চ গাছে ঘেরা সবুজে মোড়া পাহাড়ের মাঝ থেকে সূর্য এসে উকি দেবে। তুষারাবৃত পাহাড় মুহুর্মুহু রং বদলাচ্ছে, এই কমলা, তো এই উজ্জ্বল হলুদ, এই আবার গোলাপি-বেগুনির মিশেল! এছাড়া এখানে রয়েছে নাম না জানা নানা বাহারি ফুল। খাড়া পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে বাঁকে চোখে পড়বে অবহেলায় ফুটে থাকে ম্যাগনোলিয়া কিংবা রডোডেনড্রন।

এই অফবিট গ্রামের পিছনেই রয়েছে নেওড়া ভ্যালি জঙ্গল। দেখা মিলবে বিভিন্ন বৈচিত্র্যের পাখি ও বন্য জন্তুর। অবস্থানগত কারণেই ব্রিটিশ শাসকদের এই পাহাড়ি গ্রাম বেশ পছন্দের ছিল। এমনকি রিকিসুমে পাহাড়ের চূড়ায় একটি বাংলো তৈরি করেছিলেন তাঁরা। সেই বাংলো এখন ইতিহাসের পাতায় ধ্বংসাবশেষ নিদর্শন হিসেবে স্থান পেয়েছে। গ্রাম থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে তিস্তা নদী। সেখানে রিভার র্যাফটিং করা যায়। অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ হলে একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন।



কীভাবে যাবেন?
সড়কপথে শিলিগুড়ি থেকে এই পাহাড়ি গ্রামের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। এনজেপি স্টেশনে নেমে ভাড়া গাড়িতে রিকিসুম পৌঁছে যেতে পারেন। এছাড়া বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে গাড়ি করে এই ঠিকানায় যেতে সময় লাগবে সাড়ে তিন ঘণ্টা। এই গ্রামে খুব বেশি হোটেল নেই। তবে প্রচুর হোম স্টে রয়েছে। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের আতিথেয়তায় আপনি মুগ্ধ হবেন।
ব্যস্ত শহর থেকে দূরে সবুজে মোড়া পাহাড়, প্রকৃতির খেলা দেখতে চলে আসুন এই অফবিট গ্রামে








