তৃণমূলে ‘রাস্তার নামে লবি’ নিষিদ্ধ, ক্যামাক স্ট্রিট নয় দল চলবে ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকেই

তৃণমূলে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ নেতাদের ‘ক্যামাক স্ট্রিটের লোক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দলের নীতি নির্ধারণে ক্যামাক স্ট্রিটের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ সবসময় চর্চার বিষয়। সম্প্রতি তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের তরফে ‘রাস্তার নামে লবিবাজি’ নিষিদ্ধ করার বার্তা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দলের অভ্যন্তরে কড়া বার্তা পৌঁছে গেছে।

‘রাস্তার নামে লবিবাজি’: কী বোঝাতে চাইলেন মমতা? তৃণমূলের অন্দরে ‘রাস্তার নামে লবিবাজি’ বলতে বোঝানো হয়েছে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঠিকানা— কালীঘাট এবং ক্যামাক স্ট্রিট। মমতার বাসভবন কালীঘাটের ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর ক্যামাক স্ট্রিট তৃণমূলের ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত।

তৃণমূলে ‘রাস্তার নামে লবি’ নিষিদ্ধ, ক্যামাক স্ট্রিট নয় দল চলবে ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকেই
তৃণমূলে ‘রাস্তার নামে লবি’ নিষিদ্ধ, ক্যামাক স্ট্রিট নয় দল চলবে ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকেই

মমতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের নেতৃত্বের মধ্যে কোনও গোষ্ঠী রাজনীতি বা ‘লবি’ করার চেষ্টা করলে তাকে রেয়াত করা হবে না। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, এবং মালদহ জেলার নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি এই বার্তা দেন।

ক্যালেন্ডার-কাণ্ড ও নেতৃত্বের দূরত্ব: সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে পাঠানো ক্যালেন্ডার নিয়ে বিতর্ক তৃণমূলের অভ্যন্তরে উত্তাপ বাড়িয়েছে। ক্যালেন্ডারে মমতা ও অভিষেকের ছবি থাকলেও, অভিষেকের ছবি তুলনামূলক বড় হওয়ায় তা জেলা সভাপতিদের ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়।

পরে ক্যালেন্ডারের নকশা পরিবর্তন করে নতুন ক্যালেন্ডার পাঠানো হয়। কিন্তু এই ঘটনায় মমতা-অভিষেকের নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ক্যামাক স্ট্রিট বনাম কালীঘাট: নেতৃত্বের দ্বৈত কেন্দ্র? তৃণমূলে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ নেতাদের ‘ক্যামাক স্ট্রিটের লোক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দলের নীতি নির্ধারণে ক্যামাক স্ট্রিটের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও মমতার সাম্প্রতিক বার্তা স্পষ্ট করেছে, দলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কালীঘাটের হাতেই। অভিষেকের প্রস্তাবিত প্রশাসনিক রদবদল এখনও কার্যকর হয়নি। এতে ক্যামাক স্ট্রিট এবং কালীঘাটের ‘দূরত্ব’ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

মমতার কড়া বার্তা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তৃণমূলে শৃঙ্খলার কোনও বিকল্প নেই। তিনি দলের মধ্যে গোষ্ঠী রাজনীতি এবং লবিবাজি বন্ধ করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন। নেত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তৃণমূলের পথ নির্দেশ কালীঘাট থেকেই হবে, কোনও ‘রাস্তা’ দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না।

রাজনীতির নতুন সমীকরণ: তৃণমূলের নেতৃত্বের এই সমীকরণ লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের সংগঠনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে মমতা-অভিষেকের ‘দূরত্ব’ দলকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত