ডিসেম্বরের ভোরেই বাজারে যেন আতঙ্কের হাওয়া। কারণ কেন্দ্রের প্রস্তাবিত তামাক সেস–বৃদ্ধির বিল কার্যকর হলেই একটা সিগারেট কেনার খরচও হয়ে উঠবে বিলাসিতা। সাধারণ ধূমপায়ী থেকে তামাক সেবনকারী— সবাইকে এবার বাড়তি খরচের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে হতে পারে। ওয়্যাকিবহাল সূত্রের দাবি, শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই গুরুত্বপূর্ণ আবগারি বিল পেশ করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।
মূল পরিকল্পনা স্পষ্ট— ‘সিন গুডস’ অর্থাৎ তামাকজাত পণ্যের উপরে অতিরিক্ত সেস বসিয়ে সরকারের রাজস্ব বাড়ানো। সেই বাড়তি আয়ের অর্থ যাবে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের মতো অগ্রাধিকার খাতে। বিল পাস হয়ে আইনে পরিণত হলে তা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে, অর্থাৎ দেরির কোনও সুযোগ নেই।


ডিসেম্বরের শুরুতেই ধূমপায়ীদের জন্যে খারাপ খবর, সিগারেটের দাম বাড়তে পারে ১৫ গুণ!
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা বনাম নেশার খরচ বৃদ্ধি
২০১৭ সালে জিএসটি চালু হওয়ার সময় আবগারি শুল্ক নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, সেস বৃদ্ধি হলেও যাতে বাজারে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। কিন্তু এবার সেই ‘সুরক্ষাবলয়’ ভাঙতে বসেছে। নতুন বিলে তামাকজাত পণ্যের শুল্কে বিরাট পরিবর্তন প্রস্তাব করা হয়েছে।

৭৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের বেশি ফিল্টার সিগারেটের প্রতি এক হাজার স্টিকে প্রস্তাবিত সেস হতে পারে ১১,০০০ টাকা, যা আগে ছিল মাত্র ৭৩৫ টাকা। অর্থাৎ বৃদ্ধি প্রায় ১৫ গুণেরও বেশি।
নন–ফিল্টার সিগারেট, বিশেষ করে ৬৫–৭০ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার স্টিকে নতুন সেস ৪,৫০০ টাকা, যেখানে আগের শুল্ক ছিল মাত্র ২৫০ টাকা। গুণের হিসেবে এটি ১৮ গুণ বেশি।
সবচেয়ে ভয়াবহ লাফ সম্ভবত পাইপ ও সিগারেটে ভরা স্মোকিং মিক্সচারের ক্ষেত্রে। আগে যেখানে ৬০ শতাংশ সেস নেওয়া হত, নতুন বিলে তা বাড়িয়ে ৩২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব আছে।
এই বৃদ্ধির সংখ্যা পড়ে ধূমপায়ী মহলে এখন একটাই প্রতিক্রিয়া— “একটা সিগারেট কিনতেই তো হাফ প্যাকেটের সমান খরচ হবে!”


পানমশলা বাজারেও ঝড়
সিগারেটই শুধু নয়, পানমশলার বাজারেও বসতে পারে অতিরিক্ত সেস। যদিও বিড়িকে এই বিলে আপাতত ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তবু packaged tobacco, chewing tobacco, scented pan masala pouch, smoke mixture, and premium cigarettes— সবই থাকতে পারে নতুন কর–চাপের তালিকায়।
উৎপাদন যন্ত্রেও সেস বসানোর বিধান
বিলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো উৎপাদন ক্ষমতার ভিত্তিতে সেস আরোপ। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে—
ধরা যাক, একটি মেশিনে প্রতি মিনিটে ২.৫ গ্রামের ৫০০টি পানমশলার প্যাকেট তৈরি হয়।
সেক্ষেত্রে প্রতি মেশিনে প্রত্যেক মাসে ১০০ টাকা সেস বসবে।
আর উৎপাদন ও পণ্যের ওজন বাড়লে সেসের পরিমাণও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।
অর্থাৎ এটি আর শুধু ক্রেতার দামের গল্প নয়, এটি এখন উৎপাদনশিল্পের খরচ বৃদ্ধির চিত্রও।
আর production cost বাড়লে তার সরাসরি ধাক্কা retail price–এ পড়বে— বাজার অর্থনীতির এ গণিত অমোঘ।
তামাক সেস বৃদ্ধির পরোক্ষ প্রভাব: সোনার বাজারে চাপ
আপনি ভাবছেন তামাকের সেস আর আজকের সোনার দাম–এর যোগসূত্র কোথায়?
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন— যখন নিত্যপ্রয়োজনীয়–বহির্ভূত ‘নেশাজাত’ পণ্যে কর বাড়ে, তখন মধ্যবিত্তের disposable income–এ টান পড়ে।
খরচের ভারসাম্য বদলায়।
সঞ্চয় কমে।
আর তার অদৃশ্য ঢেউ এসে পড়ে সোনার ক্রয়–চাহিদা ও বিনিয়োগ আচরণে, যা ভবিষ্যতে আজকের সোনার দাম–কেও প্রভাবিত করতে পারে conditional ভাবে।
মধ্যবিত্তের মনস্তত্ত্ব
অনেক পরিবারে বছরের শেষে gold saving পরিকল্পনা থাকে।
কিন্তু হঠাৎ তামাক সেস চাপ বাড়লে সেই বাজেট থেকেই কেটে নেওয়া হয় small savings।
আর সোনার demand–supply equation sensitive হওয়ায় সামান্য চাহিদা–বদলও দরে ওঠা–নামার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভবিষ্যতের কর–তালিকায় বাড়তি পণ্য যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা
বিলের আরেক উল্লেখযোগ্য অংশ—
জনস্বার্থে ‘সিন গুডস’ তালিকায় সরকার পরে আরও পণ্য যোগ করতে পারবে।
অর্থাৎ future tobacco cess list expandable, যা আরও বাড়াতে পারে বাজারের উৎকণ্ঠা।







