লোকসভার পর এবার নজরে রাজ্যের ৪ টি আসনে উপনির্বাচন। কে কার বিরুদ্ধে লড়বে সেটাই বড় কথা এখন। অধীর চৌধুরী এবং রাজ্য সিপিআইএমের সৌজন্যে INDIA জোট কাজ করেনি বাংলায়। ‘সঠিক আসন সমঝোতা’ না হওয়ায় হেরেছে সেলিম অধীর দুজনেই। কিন্তু এবার শিয়রে উপনির্বাচন। বাম শিবির সূত্রে খবর, আপাতত জোট এখনই ভাঙতে চাইছে না তারা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে মানিকতলা ও বাগদা বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবে সিপিআইএম। অন্যদিকে রানাঘাট দক্ষিণ ও রায়গঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে কংগ্রেসকে। আগামী ১৪ জুন বামফ্রন্টের বৈঠক রয়েছে। সেখানে এই বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।
আরও পড়ুনঃ মানিকতলা উপনির্বাচনে লড়ুন অধীর চৌধুরী, কংগ্রেস হাইকমাণ্ডকে আর্জি রোহন মিত্রর


অন্যদিকে কংগ্রেস হাইকমাণ্ড লোকসভা নির্বাচনের শুরু থেকেই চাইছিল রাজ্যে সঠিকভাবে গড়ে উঠুক ইন্ডিয়া জোট। কংগ্রেস ও তৃণমূল মিলিতভাবে প্রার্থী দিক। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরীর বিদ্রোহের কারনে। ফলস্বরূপ বহরমপুর আসনে ব্যাপকভাবে পরাজিত হয়েছেন অধীর চৌধুরী। মুর্শিদাবাদে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন মহম্মদ সেলিমও। লোকসভার পর বিধানসভা উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে আর ভুল চাইছেনা কংগ্রেস হাইকমাণ্ড। সূত্রের খবর ৩ টি আসনে তৃণমূলকে সমর্থন করে ১ টি আসনে লড়াই করতে চায় কংগ্রেস।

কংগ্রেস সূত্রে খবর, বাগদা, রানাঘাট দক্ষিণ ও রায়গঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে তৃণমূল কংগ্রেসকে। অন্যদিকে মানিকতলায় লড়বে জাতীয় কংগ্রেস। মানিকতলার আসনটি কংগ্রেস লড়তে চেয়েছে তাঁর অন্যতম কারণ কলকাতা উত্তর লোকসভার এই আসনে একসময় যথেষ্ট প্রভাব ছিল জনপ্রিয় নেতা সোমেন মিত্রর। সেই কারনেই কংগ্রেস হাইকমাণ্ড চাইছে ‘ঘরের ছেলে’ সোমেন পুত্র রোহন এই কেন্দ্র থেকে লড়ুক উপনির্বাচনে। কিন্তু লোকসভার পরিপ্রেক্ষিতে এই আসন গুলিতে কে কোথায় দাঁড়িয়ে?
উপনির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে কংগ্রেস পাশে চাইছে তৃণমূলকে, ৩-১ ফর্মুলায় আসন বিন্যাস।



মানিকতলা আসনে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ২৩২। যার মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ৬৬ হাজার ৯৬৪ ভোট, বিজেপি পেয়েছে ৬৩ হাজার ৩৮৯ টি ভোট এবং বাম-কংগ্রেস মিলিত ভাবে ভোট পেয়েছে ৯ হাজার ৪২১ টি ভোট। বিজেপি এই আসন থেকে তাপস রায়কে প্রার্থী করবে বলে শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে তৃণমূল আর কংগ্রেস যদি মিলিতভাবে লড়াই করে তাহলে এই আসনে জোটের জয় সময়ের অপেক্ষা। এই আসনে প্রদীপ ভট্টাচার্য তেমন ভোট না পেলেও সোমেন প্রভাবে রোহন যে তাঁর থেকে অনেক বেশি ভোট পাবেন তা হলাই বাহুল্য।
অন্যদিকে, রানাঘাট দক্ষিণ, বাগদা এবং রায়গঞ্জ বিধানসভায় বিজেপির থেকে লোকসভার ভিত্তিতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের সাথে জোট হলে রানাঘাট দক্ষিণ ও বাগদা আসনে বিজেপি-তৃনমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৫০-৫০ হয়ে যাবে। এখন দেখার দুই দলে শীর্ষনেতৃত্ব কি সিদ্ধান্ত নেন।







