হাওড়ার নরসিংহ কলেজে ফের র্যাগিং বিতর্ক। কলেজের প্রাক্তনী এবং বর্তমানে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সহ সভাপতি সৌভিক রায়ের বিরুদ্ধে উঠল একাধিক ছাত্রকে মানসিকভাবে নির্যাতন ও অশালীন আচরণের অভিযোগ।
এসএফআই-এর তরফ থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও এবং অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত নেতা র্যাগিংয়ের নামে জুনিয়র ছাত্রদের উপর অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, কলেজের নির্জন সময়ে তাদের ডেকে মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হত, এবং বারবার সীমা লঙ্ঘন করা হত ব্যক্তিগত মর্যাদার।


২০২৩ সালে এই ঘটনা নিয়ে হাওড়া জেলা টিএমসিপি সভাপতির কাছে অভিযোগ জানানো হয়। রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের কাছেও অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়। এমনকি ব্যাঁটরা থানাতেও অভিযোগ জমা পড়ে। যদিও অভিযোগকারীদের দাবি, এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে এক অভিযোগকারী ছাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘আমাদের একাধিক বন্ধু এই ধরনের অপমানজনক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাদের জানিয়েও কোনও সুরাহা পাইনি।’’
এসএফআই-এর হাওড়া জেলা নেতৃত্বের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে রাজ্য ছাত্র সংগঠন ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেবে এবং ঘটনার তদন্ত ও দোষীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ দাবি জানাবে।


তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমি এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে যদি ঘটনার সত্যতা থাকে, সংগঠন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আমরা এই ধরনের আচরণকে সমর্থন করি না।’’
এদিকে অভিযুক্ত নেতা সৌভিক রায় এই বিষয়ে এখনো কোনও মন্তব্য করেননি। তবে বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলি বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে এবং কলেজ প্রশাসনের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করছে।
ছাত্রদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা এখন বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। বিশেষ করে যেখানে কলেজে র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া আইন আছে এবং শিক্ষাঙ্গনকে নিরাপদ রাখার দায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।
❓ FAQs
১. কোথায় এই অভিযোগ উঠেছে?
হাওড়ার নরসিংহ কলেজে একাধিক ছাত্র এই অভিযোগ করেছেন।
২. অভিযুক্ত কে?
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সহ সভাপতি সৌভিক রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
৩. কবে অভিযোগ জানানো হয়?
২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতাদের ও থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছিল।
৪. সংগঠন কী বলছে?
টিএমসিপি রাজ্য সভাপতি জানিয়েছেন, প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫. তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে?
এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিক কোনও প্রকাশ্য পদক্ষেপ হয়নি।







