রাজ্যে আগামী নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতে বড়সড় প্রচার পরিকল্পনায় তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে ধারাবাহিক প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের শতাধিক নেতা-কর্মীকে।
দলীয় সূত্রে খবর, অভিজ্ঞ মন্ত্রী থেকে শুরু করে নবীন নেতৃত্ব—প্রত্যেককে ১ থেকে ৫টি বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাজ হবে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকার বুথ স্তরে প্রচার কর্মসূচির সমন্বয় করা। উল্লেখযোগ্যভাবে, গোটা রাজ্যের প্রায় ৮৪ হাজার বুথে এই প্রচার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


এই নিবিড় প্রচারের পাশাপাশি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ৩৮টি বিশেষ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি টিমে থাকবেন মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে ব্লক বা টাউন স্তরের সভাপতি। এই টিমগুলির নির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকবে সমাজের বিভিন্ন অংশে সরকারের কাজের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
গত শুক্রবার দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই কর্মসূচির প্রাথমিক রূপরেখা তুলে ধরেন। তার পর থেকেই সংগঠনের অন্দরে প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রচার অভিযানে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ইনফ্লুয়েন্সারদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য স্তরে পরিচিত প্রায় ২০০ জন ইনফ্লুয়েন্সার এবং জেলা ভিত্তিতে প্রায় ১৬০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের কাছে দলের তরফে একটি বিশেষ তথ্যভিত্তিক কিট—‘উন্নয়নের পাঁচালি’—তুলে দেওয়া হবে।


এক সাংসদের কথায়, “এই কিটে মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সরকারের কাজের বিস্তারিত তথ্য থাকবে। যাঁরা সমাজে মতামত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন, তাঁদের মাধ্যমেই এই বার্তা আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছবে।”
দলীয় এক মন্ত্রী জানান, শিক্ষা ও সংস্কৃতির জগতের বিশিষ্টদের পাশাপাশি বিভিন্ন কমিউনিটির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছেও এই টিম পৌঁছতে পারে। যেমন—রাজবংশী সমাজ বা মতুয়া সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই গোটা প্রচার অভিযানে একটি ভোটকুশলী সংস্থার টিম গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করবে বলেও জানা গিয়েছে। তারা প্রতিটি টিমকে কৌশলগত দিকনির্দেশ দেবে এবং কতজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যও ঠিক করে দেবে।
তৃণমূল নেতৃত্বের ব্যাখ্যা, “এই বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সমাজে মতামত তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেন। তাঁদের অভিমত বহু মানুষের উপর প্রভাব ফেলে। সেই কারণেই গত ১৫ বছরে রাজ্যের উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ।”







