রাজ্য রাজনীতিতে SIR ইস্যু ঘিরে উত্তাপ বাড়তেই তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট রোডম্যাপ নির্ধারণে নেমে পড়েছে। SIR নিয়ে কোন পথে তৃণমূল—এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আগামী ২৪ নভেম্বর, যখন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মোট ১০ হাজার জেলা ও বুথ স্তরের নেতাকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসবেন। বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া রিপোর্ট, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং SIR চলাকালীন নাগরিকদের সমস্যা–সব কিছু নিয়েই হবে বিশদ আলোচনা।
অভিষেকের সঙ্গে এ ধরনের বৃহৎ বৈঠক এর আগেও হয়েছে। SIR শুরুর ঠিক আগেই বুথ স্তরের নেতৃত্বকে তিনি একাধিক নির্দেশ দেন—বুথে বুথে SIR সহায়ক ক্যাম্প চালু রাখা, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা এবং প্রশাসনিক ব্যাখ্যার অভাব থাকলে তা দলের পক্ষ থেকে পূরণ করা। এবার সেই কর্মসূচির অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে আবার বৈঠকে ডাকা হয়েছে বৃহৎ সংগঠন কাঠামো।
SIR নিয়ে কোন পথে তৃণমূল চলবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তৃণমূল সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিটি জেলা থেকে SIR–এর ধারাবাহিক রিপোর্ট চাইবেন। বিশেষ নজর থাকবে মতুয়া অধ্যুষিত উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার দিকে। এই দুই জেলায় নাগরিক নথি সংক্রান্ত কাজ এবং SIR আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে বলে দাবি শাসকদলের। ফলে নাগরিকদের সহায়তা কতটা পৌঁছাচ্ছে এবং আরও কোন ব্যবস্থা নিতে হবে, তা পরিষ্কার করতে চান অভিষেক।
SIR নিয়ে কোন পথে তৃণমূল? ১০ হাজার নেতার সঙ্গে বৈঠকে অভিষেকের নতুন রোডম্যাপ
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আসন্ন কয়েক সপ্তাহ SIR–কে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে উত্থান–পতন চলবে এবং SIR নিয়ে কোন পথে তৃণমূল—তা জানতেই রাজ্যজুড়ে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। অভিষেক বৈঠকে আগামী দিনের দলীয় কর্মসূচিও ঘোষণা করতে পারেন। নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানো, আইনি দিক তুলে ধরা এবং বিরোধী সমালোচনার জবাব—সব দিকেই নতুন রূপরেখা থাকতে পারে।
অন্যদিকে, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে তৃণমূল প্রতি বছরের মতো এবারও পালন করবে সংহতি দিবস। যুব তৃণমূল, ছাত্র তৃণমূল এবং সংখ্যালঘু সংগঠনকে বড় সমাবেশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সমাবেশের প্রস্তুতির পর্যালোচনাও থাকছে সোমবারের এই বৈঠকে।

এদিন দলীয় সাংসদদের কর্মক্ষমতা, মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি, এবং SIR সচেতনতা শিবিরে সাংসদ ও বিধায়কদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হবে।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, এই মুহূর্তে SIR–কে ঘিরে বিভ্রান্তি এবং আতঙ্কের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে SIR–এর কাজকে অপরিকল্পিত বলে অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি নাগরিক আতঙ্কে একাধিক মৃত্যুর বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে তৃণমূল।
এই সমস্ত পরিস্থিতির মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৃহৎ বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ এই বৈঠকেই স্পষ্ট হবে—SIR নিয়ে কোন পথে তৃণমূল, এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ দলের মূল রাজনৈতিক বয়ান কী হবে।



