বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যসভা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেই কি নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিল তৃণমূল? নাম ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই জল্পনা তুঙ্গে। টলিউড অভিনেত্রী Koel Mallick, প্রাক্তন ডিজিপি Rajeev Kumar, আইনজীবী Menaka Guruswamy এবং মন্ত্রী Babul Supriyo— এই চার নাম ঘিরে প্রশ্ন, কৌশল না কি নিছক চমক? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে আগামী দিনের বৃহত্তর রণকৌশল।
বদলাচ্ছে সংসদীয় মুখ
সংসদে নেতৃত্বের কাঠামোয় ইতিমধ্যেই বড় রদবদল করেছে তৃণমূল। লোকসভায় দলনেতার ভূমিকায় উঠে এসেছেন Abhishek Banerjee। রাজ্যসভায় দলনেতা হিসেবে রয়েছেন Derek O’Brien। বর্ষীয়ানদের সরিয়ে নতুন মুখ তুলে আনার প্রবণতা স্পষ্ট।

এবার রাজ্যসভা থেকে সরে যাচ্ছেন দীর্ঘদিনের সংগঠক সুব্রত বক্সি। ফলে প্রশ্ন— কেন অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের বদলে ভিন্ন পেশার চার মুখ?
লক্ষ্য কি শুধু রাজ্য, না দিল্লির মসনদ?
বিধানসভা ভোট সামনে থাকলেও, তিন বছরের মাথায় লোকসভা নির্বাচন। জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছেন তৃণমূল সুপ্রিমো Mamata Banerjee। বিরোধী জোটের ভিতরে নেতৃত্বের প্রশ্নে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে নিজেকে বিকল্প মুখ হিসেবে তুলে ধরার রণকৌশলেই কি এই পদক্ষেপ?
সংসদ কেবল বিতর্কের মঞ্চ নয়, জাতীয় লবিংয়ের জায়গা। একসময় এই কাজ করতেন প্রয়াত Mukul Roy। এখন সেই শূন্যস্থান পূরণে দরকার ভিন্ন দক্ষতার সাংসদ।


মেনকা ও রাজীব: আইনি ও প্রশাসনিক শক্তি
গত কয়েক বছরে আদালত ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার চাপে তৃণমূলকে বারবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মেনকা গুরুস্বামীর মতো সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবী দলে থাকা বড় সম্পদ। দ্রুত আইনি পরামর্শ, সাংবিধানিক ব্যাখ্যা— সংসদ ও আদালত দুই মঞ্চেই কার্যকর হতে পারেন তিনি।
অন্যদিকে রাজীব কুমার— প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘ কাজের সম্পর্ক এবং আইপিএস মহলে নেটওয়ার্ক— এই সবই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ে তৃণমূলের হাত শক্ত করতে পারে।

বাবুল: ট্রেজারি বেঞ্চে আক্রমণের ঘুঁটি?
একসময় বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। দিল্লির সংসদীয় রাজনীতি, মন্ত্রিসভা ও কেন্দ্রীয় কাঠামোর খুঁটিনাটি তাঁর নখদর্পণে। বিরোধী আসনে বসে প্রাক্তন সহকর্মীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানানো— এই কৌশলই কি মমতার পরিকল্পনা?
কোয়েল ফ্যাক্টর: সেলিব্রিটি না ভবিষ্যতের রাজনীতিক?
তৃণমূলের রাজনীতিতে তারকাদের উপস্থিতি নতুন নয়। শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো মুখ সময়ের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিক হয়ে উঠেছেন। এবার সেই তালিকায় কোয়েল মল্লিক। প্রশ্ন একটাই— তিনি কি শুধু সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে থাকবেন, না কি সক্রিয় সংসদীয় ভূমিকা নেবেন?
বদলে যাওয়া কৌশল
একসময় তৃণমূলের লক্ষ্য ছিল গোয়া, ত্রিপুরা-সহ ভিন রাজ্যে বিস্তার। এখন ফোকাস মূলত বাংলা ও জাতীয় স্তরের প্রভাব বিস্তার। রাজ্যসভায় পেশাদার রাজনীতিকের সংখ্যা কমিয়ে বিশেষজ্ঞ, প্রশাসক ও সেলিব্রিটিদের অন্তর্ভুক্ত করা সেই কৌশলগত পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এটি নিছক চারটি নাম ঘোষণা নয়। বরং আদালত, প্রশাসন, সাংস্কৃতিক পরিসর এবং জাতীয় রাজনীতির অন্দরমহল— চারটি ক্ষেত্রেই একসঙ্গে শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা। ২০২৬-এর বিধানসভা ও তার পরের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ মাথায় রেখেই কি এই মাস্টারস্ট্রোক? সময়ই দেবে তার উত্তর।








