সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনে বড়সড় পরিবর্তন হল তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য পুনর্গঠিত কমিটিতে দলের হাতে থাকা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ দায়িত্ব পেলেন। বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী। অন্যদিকে, রাসায়ন ও সার সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান পদে কীর্তি আজাদের জায়গায় এসেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
এর ফলে বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদটি আর তৃণমূলের হাতে থাকল না। আগে এই দায়িত্বে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডোলা সেন। নতুন পুনর্গঠনের পর তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুধাংশু ত্রিবেদীকে।
অন্য পরিবর্তনটি হয়েছে রাসায়ন ও সার সংক্রান্ত কমিটিতে। লোকসভার তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের জায়গায় চেয়ারম্যান হয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। প্রকাশিত রিপোর্টগুলিতে কাকলিকে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা এবং বর্তমানে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সঙ্গে যুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার, ৩ অক্টোবর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন বিভিন্ন বিভাগ-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠন করেন। নতুন ব্যবস্থায় মোট ২৪টি কমিটির চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অধিকাংশ কমিটির চেয়ারম্যান অবশ্য নিজেদের পদে বহাল রয়েছেন।
পরিবর্তনের তালিকায় তৃণমূলের দুই চেয়ারম্যান পদ হারানোর বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে এসেছে। কারণ, একটি পদ বিজেপির হাতে গেলেও অন্য পদটি গিয়েছে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া সাংসদের হাতে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের শশী থারুর বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন। কৃষি সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কংগ্রেসের চরণজিৎ সিং চন্নিও দায়িত্বে রয়েছেন। বিজেপির একাধিক সাংসদ এবং এনডিএ-র শরিক দলের কয়েকজন নেতাকেও বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একাধিক সাংসদ দল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তাঁদের মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। এর পর সংসদে তাঁদের আসনবিন্যাসেও পরিবর্তন আসে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটেই সংসদীয় কমিটির পুনর্গঠনে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নতুন দায়িত্ব পাওয়া আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে যে কোনও ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের বক্তব্য হিসেবে দেখা উচিত; কমিটির চেয়ারম্যান নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তটি নিজেই মূল তথ্য।
এদিকে, NCPI-তে যোগ দেওয়া তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদ নিয়েও প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তৃণমূলের তরফে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে সেই আবেদনের বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
লোকসভার সচিবালয়ের তরফে তাঁদের জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সাংসদরা আরও সময় চাইলেও আপাতত ৮ অক্টোবরই নির্ধারিত সময়সীমা বলে প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ, একদিকে সংসদীয় কমিটির নেতৃত্বে তৃণমূলের দুই পুরনো চেয়ারম্যানের জায়গায় পরিবর্তন এসেছে, অন্যদিকে দলত্যাগ সংক্রান্ত অভিযোগে বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান নিয়েও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী দিনে তাঁদের সাংসদ পদ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, তার উপর সংসদে তৃণমূল ও NCPI-র সমীকরণ আরও স্পষ্ট হতে পারে।



