ইয়াসের দাপটে বিপর্যস্ত রায়দিঘিকে বাঁচাতে ‘ক্লান্তিহীন’ কান্তির স্মরনে বর্তমান বিধায়ক!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ইয়াসের দাপটে বিপর্যস্ত রায়দিঘিকে বাঁচাতে ক্লান্তিহীন কান্তির স্মরনে বর্তমান বিধায়ক!ঝড়ের নাম বদলালেও ‘ঝড়ের আগে কান্তি আসে’ প্রবাদ আজও সমান প্রাসঙ্গিক। বারবার তিনবার। রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই নিয়ে পরপর তিনবার নির্বাচনে হেরেছেন রায়দিঘির বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। তবে হার জিত কোনোদিনই তাঁকে বিশেষ টলাতে পারেনি। মানুষের পাশে থাকার জন্য ভোটে জয় পরাজয়ে যে তিনি একেবারেই বিশ্বাস করেন না তা তাঁর কাজের মাধ্যমে বারবার প্রমান করেন। এবার সেই ক্লান্তিহীন কান্তির স্মরন নিলেন তৃণমূল বিধায়ক ডা.‌ অলোক জলদাতা।

আরও পড়ুনঃ বিপর্যয় নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি শুভেন্দু-র। তর্ক করার সময় নেই, বলছে তৃণমূল!

রায়দিঘিকে বাঁচাতে এবার বর্তমান বিধায়ক ডা.‌ অলোক জলদাতা ফোন করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ককে। বিধায়ক অলোক জলদাতা বললেন, ‘‌সুন্দরবন দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে কান্তিবাবুর অনেক অভিজ্ঞতা আছে, তাই আমি নদীবাঁধ বিষয়ে পরামর্শ নিলাম। দলমত নির্বিশেষে সবাই মিলে এই পরিস্থিতিতে মানুষকে বাঁচাতে হবে। কান্তিবাবুও মুখ্যমন্ত্রীকে আলাদা করে সমস্যা জানাবেন বলে জানিয়েছেন। আমিও যোগাযোগ রাখব তাঁর সঙ্গে।’‌

এই বুড়ো হাড়েও মানুষের পাশে থাকা থেকে মানুষের জন্য লড়াই যে কোনও তরুণকে লজ্জায় ফেলে দিতে পারে। প্রচলিত আছে ‘ঝড়ের আগে কান্তি আসে’। রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চল সুন্দরবনের মানুষ তাঁর কাছে পরিবারের মত। নিজের মুখে স্বীকার করেন সেকথা। তাই আক্ষরিক অর্থেই বুলবুল, আয়লা থেকে আমফান বা ইয়াস যাই আসুক তার আগে সুন্দরবন পৌঁছান কান্তি। বছরের পর বছর কেটেছে ঝড়ের নাম বদলেছে তবে সেই কথা আজও একটুও ফিকে হতে দেননি তিনি। যত বড় সাইক্লোনই হোক কান্তির আগে সে পৌঁছবে তা যেন সূর্য পশ্চিমদিকে ওঠার সামিল।

ঝড়ের আগে পৌঁছে সেখানকার মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাঁধ মেরামতি থেকে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া, ধুতিটা হাঁটুতে তুলে জল ভেঙ্গে মাথায় করে জিনিস বওয়া আবার সেই প্রান্তিক মানুষদের কোলে শুয়ে বিশ্রাম নেওয়া কান্তিবাবু যেন তাদেরই একজন। তাই রায়দিঘি ভোটব্যাঙ্কে তাঁর দিক থেকে বারবার মুখ ফেরালেও তিনি রায়দিঘি তথা সুন্দরবন উপকূলকে আজও ভালবাসেন নিজের পরিবারের মতই।

ইয়াসের পূর্বাভাস পাওয়ার পর থেকেই ৭৭ বছরের কান্তিবাবু নেমে পড়েছেন কাজে। নিজের স্ত্রীর নামাঙ্কিত স্কুলে ২০০–৩০০ জনকে আশ্রয় দিয়েছেন। সেখানে তাঁদের দু’‌বেলা ভরপেট ভাত–মাছ–ডিম খাওয়াচ্ছেন। দু’‌বেলা শুনছেন তাঁদের সমস্যার কথা। জানিয়েছেন, যতদিন বাঁচবেন, সুন্দরবনের মানুষদের সেবা করবেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর