অন্ধ্রপ্রদেশের পুরসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হতেই প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলছে শাসক টিডিপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের পক্ষে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ৯২টি পুরসভা ও নগর স্থানীয় সংস্থায় ভোটগণনা শুরু হয়েছে। বিজয়ওয়াড়া ও বিশাখাপত্তনমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের ফলের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। অন্যদিকে, পুলিভেন্দুলায় গণনা বন্ধের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্ট (Andhra Pradesh High Court)।
প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, কুপ্পমে ডাকযোগে আসা ব্যালটে টিডিপির পক্ষে সমর্থনের খবর মিলেছে। নারসিপত্তনম পুরসভায় প্রথম ও নবম ওয়ার্ডে টিডিপি প্রার্থীদের জয়ের খবরও সামনে এসেছে। তবে এগুলি প্রাথমিক ফলের তথ্য। রাজ্যজুড়ে গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সামগ্রিক ফলের ছবি স্পষ্ট হবে না।
১ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশে পুরসভা নির্বাচন হয়েছিল। ভোটগ্রহণ হয় ১৩টি পুরনিগম এবং ৭৯টি পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েতে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ২ নভেম্বর কয়েকটি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ১৩৮টি কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগণনা চলছে।
এই নির্বাচনে মেয়র ও পুরসভার চেয়ারম্যান পদে ৫২০ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। পাশাপাশি কাউন্সিলর ও কর্পোরেটর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১০ হাজারেরও বেশি প্রার্থী। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের (State Election Commission) ব্যবস্থাপনায় গণনার জন্য একাধিক হল ও টেবিল তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গণনাকেন্দ্র এবং স্ট্রংরুমে সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
শাসক জোটের আসন সমঝোতা অনুযায়ী, ১৩টি পুরনিগমের মেয়র পদে তেলুগু দেশম পার্টি (Telugu Desam Party বা TDP) ১০টিতে, জনসেনা পার্টি (Jana Sena Party) দু’টিতে এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) একটিতে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSR Congress Party বা YSRCP) সব ক’টি মেয়র পদেই প্রার্থী দিয়েছে। ফলে পুরনিগমগুলির ফল শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ।
৮৭টি পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েতের মধ্যে ১৭টি জায়গায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫টি পদ পেয়েছে টিডিপি, একটি জনসেনা এবং একটি বিজেপি। বাকি ৭০টি চেয়ারম্যান পদের জন্য ভোট হয়েছে। এই পরিসংখ্যানও শাসক জোটের প্রাথমিক সুবিধার অন্যতম ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিভেন্দুলার ভোটগণনা ঘিরে অবশ্য আলাদা করে আইনি টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। ওয়াইএসআর কংগ্রেসের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওয়াই এস প্রমীলা এবং সাংসদ ওয়াই এস অবিনাশ রেড্ডি পুনর্নির্বাচন ও গণনা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণে অনিয়ম হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্ট। ফলে সেখানে গণনা চালিয়ে যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়।
বিজয়ওয়াড়ার মেয়র পদে লড়াইও এই নির্বাচনের অন্যতম নজরকাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা। জনসেনার প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক ভাঙ্গাভিটি রাধাকৃষ্ণের সঙ্গে রয়েছেন ওয়াইএসআর কংগ্রেসের প্রার্থী ও প্রাক্তন মেয়র রায়না ভাগ্যলক্ষ্মী। নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা এ বি ভেঙ্কটেশ্বর রাও। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা এগিয়ে থাকেন, তার উপর রাজ্যের অন্যতম বড় শহরের পুরবোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর পুরসভা স্তরেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর শহরাঞ্চলে জনসমর্থন কতটা ধরে রাখতে পেরেছে, তা প্রমাণের সুযোগ ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সামনে। তাই এই পুরসভা নির্বাচনের ফল কেবল স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
এখনও গণনা চলছে। বিভিন্ন পুরসভা ও ওয়ার্ডের ফল ধাপে ধাপে প্রকাশিত হবে। প্রাথমিক প্রবণতাকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সব কেন্দ্রের গণনা শেষ হলেই স্পষ্ট হবে অন্ধ্রপ্রদেশের শহরাঞ্চলে শাসক এনডিএ জোট কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারল এবং বিরোধী ওয়াইএসআর কংগ্রেস কতটা জমি ধরে রাখতে পারল।



