নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিপর্যয় নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী! সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তছনছ হয়ে গেছে দুই মেদিনীপুর, হাওড়ার একাংশ এবং দুই ২৪ পরগনা। কিভাবে এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ নন্দীগ্রামে তাঁর নিজের কার্যালয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের ৬ বিজেপি বিধায়ককে পাশে নিয়ে এই দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ করোনার পর এবার ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন দাদা।
এদিন বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানাচ্ছি রাজ্য সরকারের কাছে। ত্রাণ এবং মানুষের পাশে যদি সত্যিই উনি (মুখ্যমন্ত্রী) দাঁড়াতে চান তাহলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করুন।” তাঁর অভিযোগ বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রধান বিরোধী দলের বিধায়কদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও রাজ্যে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। বিধায়করা ফোন করলে ব্লক আধিকারিকরা কেউ জবাব দিচ্ছেন না। এটা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”
শুভেন্দু প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সবার সঙ্গে বৈঠক করলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন। অথচ এই রাজ্যের সরকার বিজেপি প্রতিনিধিদের উপেক্ষা করছেন। আমরা আশা করব, প্রশাসন এই ধরনের বিপর্যয়ের সময়ে দলমতের ওপরে উঠে কাজ করবে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য তৈরি।’’
কেন্দ্রীয় ত্রান বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘‘বিপর্যয় মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গের জন্যে ১,০৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তার মধ্যে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৮০০ কোটি। সেই টাকার প্রথম কিস্তির ৪০৪ কোটি কেন্দ্রের তরফে ইতিমধ্যেই রাজ্যকে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বুধবার বলেছিলেন কেন্দ্রের ৪০০ কোটি খরচ করেছেন। সেগুলো কোথায় খরচ করলেন দেখতে পাইনি। আমরা দাবি করছি, কোথায় কোথায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন, কারা কারা পেয়েছেন, এটা আপনারা জানান।”
বিপর্যয় নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও শুভেন্দুর সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। বিরোধী দলনেতার দাবীর জবাবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, ‘‘সরকার এখন যে কাজ করছে তাতে বিরোধী বা শাসক বলে কোনও কথা নেই। আর এখন তো তর্ক-বিতর্ক করার সময় নয়। এই সময় সবাই মিলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময়। এখন পর্যালোচনা করতে বসলে আর বাঁধ বাধা হবে না।’’



