নিজস্ব প্রতিনিধি, দিনহাটাঃ দিনে দুপুরে গুলি চলল দিনহাটায়। গুলিবিদ্ধ দিনহাটা পুর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মিঠু দাসের স্বামী বিজু দাস। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রকাশ্যে দিনের বেলায় দিনহাটা শহরে গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সংবিধান মেনে হয়নি সুপারিশ, ফিরিয়ে দিলেন রাজ্যপাল, বিধানসভার অধিবেশন ঘিরে জটিলতা


তৃণমূল কংগ্রেসের দাবী, বিধায়ক উদয়ন গুহর উপরে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা অজয় রায় এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় তাঁর দিনহাটা শহরের মদনমোহন মন্দির সংলগ্ন বাড়িতে ফেরেন। তাঁর ফেরার খবর পেয়ে স্থানীয় মানুষজন জমায়েত করেন। চাকরি দেওয়ার নাম করে যে টাকা অজয় রায় নিয়েছিল, তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে ফেরত নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। বিক্ষোভ থামাতে আচমকা অজয় রায়ের বাড়ির ভেতর থেকে কে বা কারা গুলি চালায়।
সূত্রের খবর, ওই সময় বিজু দাস সেখান দিয়ে মোটর সাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা গুলি এসে তাঁর পেটে লাগে বলে। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। ঘটনাস্থলে বেশ কিছু খালি কার্তুজের খোল পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় মানুষজন জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি নেতা বিরাজ দাসের দাবি, অজয় রায় এদিন বাড়ি ফিরলে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা হামলা চালায়। তাঁরাই গুলি চালালে ওই গুলি তাঁদের কর্মীর গায়ে লাগে।



প্রাথমিক চিকিৎসার পর সেখান থেকে তাঁকে এমজেএন হাসপতালে রেফার করা হয়। খবর পেয়েই দিনহাটা হাসপাতালে আসেন বিধায়ক উদয়ন গুহ। এই ঘটনার প্রতিবাদে দিনহাটা থানায় বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা।
গত বিধানসভা নির্বাচনের পরে দিনহাটা শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের তৎকালীন পরাজিত প্রার্থী উদয়ন গুহের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা কর্মী অভিযুক্ত ছিলেন। তাঁর মধ্যে অন্যতম অজয় রায়। তিনি ওই অভিযোগ থেকে জামিনে ছাড়া পেলেও দীর্ঘ সময় দিনহাটায় ঢুকতে পারেনি।
দিনে দুপুরে গুলি চলল দিনহাটায়, বিজেপিকে কটাক্ষ তৃণমূল বিধায়কের

উদয়ন গুহর কথায়, এদিন সমাজবিরোধী অজয় রায়ের বিরদ্ধে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে গেলে, তাঁর বাড়ি থেকে গুলি ছুটে আসে। সেই গুলি দলের যুব নেতা বিজু দাসের পেটে লাগে। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে দিনহাটায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তারই প্রতিফলন আজকের ঘটনা। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে রাজ্যের গনতান্ত্রিক পরিকাঠামো ভাঙতে চাইছে বিজেপি। যদিও এবিষয়ে বিজেপি নেতার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।







