তৃণমূলে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে গ্রেফতারি! মাছ চুরির অভিযোগে সোনারপুরে কাউন্সিলর আটক, বসিরহাটে দুর্নীতিতে গ্রেফতার আরও এক

বসিরহাটে আবাস যোজনা দুর্নীতির অভিযোগে কাউন্সিলর গ্রেফতার, সোনারপুরে মাছ চুরির অভিযোগে ধরা পড়লেন আরেক কাউন্সিলর। নতুন করে চাপে তৃণমূল।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের একের পর এক জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে বিতর্ক ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনা সামনে আসছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে ফের দুই তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এক জনের বিরুদ্ধে আবাস যোজনা ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ, অন্য জন অভিযুক্ত মাছ চুরির ঘটনায়।

বসিরহাট পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোপাল দাসকে শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলেছিলেন তিনি। অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা নেওয়ার পরেও বহু উপভোক্তা ঘর পাননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই গোপাল দাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভও দেখান এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। সেই সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠতে শুরু করে।

শুধু আবাস যোজনাই নয়, এলাকায় একাধিক অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগেও তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেই পুলিশ শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে।

অন্যদিকে, শনিবার ভোরে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বরুণ সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, স্থানীয় একটি মাছের ভেড়ি থেকে মাছ তুলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ভেড়ি থেকে মাছ তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বরুণ। বিষয়টি নজরে আসতেই এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউন্সিলরকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মাছ চুরির অভিযোগে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন পুরসভা ও পুরনিগমে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে একাধিক কাউন্সিলরের পদত্যাগ, অন্যদিকে দুর্নীতি, তোলাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগে ধারাবাহিক গ্রেফতারি তৃণমূলের অন্দরে চাপ বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি হুগলির চন্দননগর পুরনিগমে ৩০ জন কাউন্সিলরের একযোগে পদত্যাগে পুরবোর্ড ভেঙে যায়। তার মধ্যেই বসিরহাট ও সোনারপুরে দুই কাউন্সিলরের গ্রেফতারি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। আগামী দিনে আরও অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর