জম্মু ও কাশ্মীরে বড়সড় নিরাপত্তা গাফিলতির অভিযোগ। আরএস পুরার জুভেনাইল অবজারভেশন হোম থেকে পালিয়ে গেল দুই পাকিস্তানি নাগরিক-সহ তিন বন্দি। বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন দুই পুলিশকর্মী। ঘটনার পরই সীমান্তবর্তী এলাকায় জারি হয়েছে ‘হাই অ্যালার্ট’, শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সোয়া ৫টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। আচমকাই অবজারভেশন হোমের নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলা চালায় তিন বন্দি। কর্তব্যরত দুই পুলিশকর্মীকে জখম করে সেখান থেকে পালিয়ে যায় তারা।
পলাতকদের মধ্যে রয়েছে দুই পাকিস্তানি নাগরিক—এহসান আনোয়ার ও মহম্মদ সানাউল্লাহ। প্রথমজন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা, দ্বিতীয়জন পাক অধিকৃত মুজাফ্ফরাবাদের। তাদের সঙ্গেই পালিয়েছে করণজিৎ সিং ওরফে গুগ্গা নামে এক স্থানীয় গ্যাংস্টার, যার বাড়ি আরএস পুরার ডাবলেহার এলাকায়।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ফুটেজটির সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি, তাতে পলাতকদের হাতে পিস্তল দেখা গিয়েছে এবং গুলির শব্দও শোনা গিয়েছে বলে দাবি।
আহত দুই পুলিশকর্মীর নাম বিনয় কুমার ও প্রবীণ কুমার। তাঁদের আরএস পুরা সাব-ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সানোয়ার সিং জানিয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জিএমসি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আরএস পুরা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এই পলায়নকে নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুতর বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। পলাতকদের খোঁজে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ডেরাগুলিতে অভিযান চলছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নাকা তল্লাশিও জোরদার করা হয়েছে।



