সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত থাকার আবহে নয়াদিল্লির নতুন সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার জল-কূটনীতিতে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ারে চন্দ্রভাগা নদীর উপর নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষজ্ঞ প্যানেল। পাকিস্তানের ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত নদীতেই ভারতের এই পদক্ষেপ—ইঙ্গিত দিচ্ছে, সন্ত্রাসবাদ-পরবর্তী কূটনৈতিক অবস্থানে ভারত আর আগের জায়গায় নেই।
কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবেশ মন্ত্রক–এর অধীন বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি (EAC) চলতি মাসে তাদের ৪৫তম বৈঠকে কিশতওয়ারের চন্দ্রভাগা নদী–র উপর ‘দুলহস্তী স্টেজ–২’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত দেয়। প্রকল্পটির ক্ষমতা ২৬০ মেগাওয়াট এবং আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৩,২০০ কোটি টাকা। একাধিক সংস্থা ইতিমধ্যেই টেন্ডার জমা দিয়েছে; শীঘ্রই বরাত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা।
প্রকল্পে সম্মতির আগে প্যানেলের বৈঠকে সিন্ধু জলচুক্তি–র প্রসঙ্গ উঠে আসে। চুক্তি অনুযায়ী চন্দ্রভাগার জল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগাভাগির কথা। তবে পহেলগাঁও হামলার পর ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ভারত এই চুক্তি স্থগিত করেছে—এ তথ্যও নথিভুক্ত করা হয়। প্যানেলের মতে, চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই প্রকল্পটি পরিকল্পিত হলেও বর্তমান কূটনৈতিক বাস্তবতায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, কিশতওয়ারে ৩৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ‘দুলহস্তী স্টেজ–১’ প্রকল্প ২০০৭ সাল থেকে চালু রয়েছে। স্টেজ–২ সেই প্রকল্পের সম্প্রসারণ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টেজ–১ থেকে একটি পৃথক নালার মাধ্যমে জল পৌঁছবে স্টেজ–২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে। প্রস্তাবিত নালার দৈর্ঘ্য ৩,৬৮৫ মিটার এবং প্রস্থ সাড়ে আট মিটার। প্রকল্পের জন্য মোট ৬০.৩ হেক্টর জমি প্রয়োজন, যার মধ্যে কিশতওয়ারের দু’টি গ্রামের ৮.২৭ হেক্টর ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।
সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের পর থেকেই পাকিস্তান ধারাবাহিক আপত্তি জানিয়ে আসছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু তাতে কার্যত কোনও সাফল্য আসেনি। ১৯৬০ সালের চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতীর জল ভারতের প্রাপ্য হলেও পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার জলে পাকিস্তানের অধিকার স্বীকৃত ছিল। পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে সেই সমঝোতাই আপাতত স্থগিত রেখেছে ভারত।
সব মিলিয়ে, চন্দ্রভাগার উপর নতুন প্রকল্পে অনুমোদন শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়—এটি ভারতের জল-কূটনীতির কৌশলগত বার্তা। আর সেই বার্তায় চাপ যে আরও বাড়ছে পাকিস্তানের উপর, তা বলাই বাহুল্য।



