জম্মু–কাশ্মীরে ফের বড় সাফল্য নিরাপত্তা বাহিনীর। বারামুল্লা জেলায় তল্লাশি চালিয়ে একটি সন্দেহভাজন জঙ্গি ঘাঁটির হদিশ মিলেছে। যৌথ অভিযানে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে রকেট চালিত গ্রেনেড (RPG), যা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
রবিবার বারামুল্লা জেলার পুলিশ জানায়, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চান্দুসার–নীলসার কান্দি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকায় জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর যৌথভাবে অভিযান শুরু করে পুলিশ, CRPF এবং ৫২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস।


শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বিপুল বিস্ফোরকের পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে মোট ১৪টি OG-7V এবং ৯টি PG-7P রকেট চালিত গ্রেনেড। সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্রগুলির উৎপত্তি রাশিয়ায়।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, উত্তর কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ ঠেকাতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রাথমিক অনুমান, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার উদ্দেশ্যেই এই অস্ত্রভাণ্ডার মজুত করা হয়েছিল। সময়মতো তা উদ্ধার হওয়ায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম কাশ্মীরেও জঙ্গি দমনে অভিযান জোরদার হয়েছে। রাজৌরি সীমান্ত সংলগ্ন গম্ভীর মুঘলান জঙ্গলে তিন জঙ্গির সন্ধানে চলছে ব্যাপক তল্লাশি। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ওই জঙ্গিরা পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।


এই অভিযানে সেনাবাহিনীর রোমিও ফোর্স, সিআরপিএফ, স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ এবং জম্মু–কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে অংশ নিয়েছে। ড্রোন ও উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে।
হোয়াইট নাইট কর্পস জানিয়েছে, এই অভিযানকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’। ডোরিমাল–গম্ভীর মুঘলান এলাকা ঘিরে জঙ্গিদের খোঁজে অভিযান এখনও চলছে।
কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে বারামুল্লা ও রাজৌরির এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছেন।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



