২০০৯ সাল। ভারতীয় সিনেমায় এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছিল রাজকুমার হিরানির কালজয়ী ছবি থ্রি ইডিয়টস। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তিন বন্ধুর আত্মঅন্বেষণের গল্প সেই বছর বক্স অফিসে ঝড় তোলে। শুধু দেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও জনপ্রিয় হয় এই ছবি। অনেকে আজও বলেন—এই এক সিনেমাই বদলে দিয়েছিল তাদের ক্যারিয়ার ভাবনা। সেই থ্রি ইডিয়টস-এর প্রত্যাবর্তন নিয়েই এখন উত্তেজনায় ফেটে পড়ছে দর্শক।
সম্প্রতি পরিচালক রাজকুমার হিরানি নিশ্চিত করেছেন যে বহু প্রতীক্ষিত থ্রি ইডিয়টস সিক্যুয়েল অবশেষে আসছে বড়পর্দায়। এই ঘোষণা প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বহুদিন ধরেই ছবিটির সিক্যুয়েল নিয়ে জল্পনা চলছিল, কিন্তু এবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হল—প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
১৫ বছর পর থ্রি ইডিয়টস সিক্যুয়েল আসছে
এই সিক্যুয়েলের সবচেয়ে বড় চমক হলো কাস্টিংয়ে কোনও বড় পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রথম ছবির চার গুরুত্বপূর্ণ মুখ—আমির খান, করিনা কাপুর খান, আর মাধবন ও শরমন যোশি—ফিরছেন তাঁদের আগের চরিত্রেই। অর্থাৎ র্যাঞ্চো, পিয়া, ফারহান ও রাজুর গল্প আবারও শুরু হতে চলেছে নতুন মোড় নিয়ে। বলিউডে বর্তমানে যেখানে সিক্যুয়েলে কাস্ট বদল প্রায় নিয়ম, সেখানে থ্রি ইডিয়টস নির্মাতারা প্রথম ছবির আবহ অক্ষুণ্ণ রাখার সিদ্ধান্তেই দর্শকের নস্টালজিয়া আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
উত্সর্গ, ব্যর্থতার ভয়, শিক্ষা ব্যবস্থা—এসব নিয়ে প্রথম ছবির বক্তব্য আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তাই থ্রি ইডিয়টস সিক্যুয়েল গল্পের গতি ঠিক কোন পথে এগোবে, তা জানতে এখনই আগ্রহ বাড়ছে ভক্তদের মধ্যে। যদিও সূত্রের খবর, চিত্রনাট্যে খুব বড় কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না, বরং প্রথম ছবির আবেগ, বন্ধুত্ব আর জীবনদর্শনই এবারও মূল সুর হবে। তবে সময়ের বদলে যাওয়া শিক্ষাক্ষেত্র, প্রযুক্তি বিপ্লব ও সমাজের চাপ—এসবই গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

বলিউডে রিমেক, রিবুট আর সিক্যুয়েলের ভিড়ের মধ্যে থ্রি ইডিয়টস 2 বিশেষ নজর কাড়ছে কারণ এটি শুধু একটি সিনেমার সিক্যুয়েল নয়—বরং একটি সাংস্কৃতিক আইকনের প্রত্যাবর্তন। যে প্রজন্ম কলেজে পড়ত ২০০৯ সালে, তারা আজ কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত। আর যারা তখন ছোট ছিল, তারা আজ নতুন চোখে দেখছে চলচ্চিত্রের মূল্য। এই দুই প্রজন্মের আবেগ মিলিয়েই মুক্তির আগেই ছবিটি ঘিরে তৈরি হচ্ছে বিরল উত্তেজনা।
জানা গিয়েছে, আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়েই শুরু হবে শুটিং। তবে ছবি কবে মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবু বলিউডের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—২০২6-এর শুরুতেই হয়তো বড়পর্দায় দেখা যাবে থ্রি ইডিয়টস সিক্যুয়েল। জনপ্রিয়তার পরিমাপ দেখে অনেকেই মনে করছেন—এটি মুক্তি পাওয়ার আগেই বক্স অফিসে রেকর্ড করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
দর্শকরা মনে করছেন, প্রথম ছবির মতো এই সিক্যুয়েলও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। কারণ এটি শুধু বন্ধুত্বের গল্প নয়, এটি জীবন বদলে দেওয়ার গল্প। আর সেই গল্প আবার ফিরে আসছে ১৫ বছর পর।



