অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করে তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। পূর্ব বর্ধমানের কালনার তৃণমূল পুরপ্রধান আনন্দ দত্তের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করার ঘটনায় কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে।
গত সেপ্টেম্বরেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে এমন অভিযোগ উঠেছিল। এবার একইভাবে পূর্ব বর্ধমানের পুরপ্রধানকে হুমকি দিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা করা হয়। আনন্দ দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে তিন অভিযুক্তের নাম— জুনায়েদুল হক চৌধুরী, শুভদীপ মালিক এবং শেখ তসলিম।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হুগলির বাসিন্দা এবং তাঁদের অবস্থান ছিল কলকাতার এমএলএ হস্টেলে। পুলিশ তাদের ফাঁদ পেতে গ্রেফতার করে। ঘটনাচক্রে, হস্টেলের যে ঘরটি অভিযুক্তরা ব্যবহার করছিলেন তা বিজেপি বিধায়ক নিখিল রঞ্জনের নামে বুক করা হয়েছিল।
বিধায়ক নিখিল রঞ্জন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘আমি কাউকে লেটারহেড দিইনি। এটি তৃণমূলের ষড়যন্ত্র।’’ তবে, পুলিশ তদন্তে জোর দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে ফোন এসেছে বলে দাবি করে আনন্দ দত্তকে টাকা দিতে বলা হয়েছিল। তিনি পুলিশকে জানিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন এবং তার পর পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।’’
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক চরমে। বিজেপি দাবি করেছে, এটি তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। অপরদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার জন্য বিজেপির নেতাদের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে।



