নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাহিনীর উচিত ছিল ৮ জনকে মারা! শীতলকুচির ঘটনা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের পর এবার বিতর্কিত মন্তব্য করে ঘি ঢালছেন রাহুল সিনহা। রাহুল সিনহার এই মন্তব্যের পর ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, বিতর্কিত মন্তব্য করে একে অপরকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন বিজেপি নেতারা।গতকাল দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, ‘বাড়াবাড়ি করলে দিকে দিকে শীতলকুচি হবে’। আর তার ২৪ ঘন্টা আগেই ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন রাহুল সিনহা।
আরও পড়ুনঃ কয়লা কাণ্ডে এবার CBI নজরে বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার, হাজিরার নির্দেশ মঙ্গলবার


নির্বাচনী প্রচারের পর গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল সিনহা মন্তব্য করেন,’৪ নয়, শীতলকুচিতে ৮ জনকে গুলি করে মারা উচিৎ ছিল” এখানেই থেমে থাকেননি বিজেপির এই নেতা, তিনি বলেছেন, ‘ঝামেলা পাকাতে এলে কী হতে পারে, তা তো শীতলকুচিতে দেখেছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী উচিৎ জবাব দিয়েছে। আবার করলেও এই জবাব দেবে।”
রাহুল সিনহার এই মন্তব্যের পর আবারও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নিয়ে গতকাল থেকেই উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। দিকে দিকে রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রী থেকে শিল্পী মানুষেরা প্রত্যেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিজেপির নেতার মুখে এই স্পর্শকাতর ঘটনার প্রেক্ষিতে এই ধরণের মন্তব্যের জন্য তীব্র বিরোধীতা করেছেন সকলে। এরই মধ্যে দিলীপ ঘোষকেও এবার ছাপিয়ে গেলেন হাবড়ার বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহা।
সাংবাদিকরা ভোটের প্রচার সেরে রবিবার রাতে রাহুলকে শীতলকুচির ঘটনা নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করেন। তখনই চরম বিতর্কে উসকে তিনি বলেন, ‘ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছেলেকে, শুধু বিজেপি করার অপরাধে যারা গুলি করে মারে, তাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যারা কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে বোম ছুড়ে মানুষকে ভোট দিতে আটকাচ্ছে, তাঁদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন মস্তানরাজ কায়েম করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার চেষ্টা করছেন।’


একের পর এক বিজেপি নেতাদের মুখে এই ধরণের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীরা। গতকালই দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন সকলে। ফের রাহুল সিনহার এই ধরণের মন্তব্যের পর, তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছেন, পাগল হয়ে গেছেন রাহুল সিনহা। উনি ভোটে কখনো জেতেনি, এবার হারবেন বিপুল ব্যবধানে। অন্যদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তি এই মন্তব্যে হতবাক, জানিয়েছেন, “ক্ষমতার অপব্যবহার একেই বলে।”
বাহিনীর উচিত ছিল ৮ জনকে মারা! দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে গতকালই তৃণমূলের তরফ থেকে তাঁর প্রচার বন্ধের দাবী উঠেছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা মঞ্ছ থেকে প্রশান্মবত্রীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, যদি মানবিকতা থাকে দল থেকে বহিস্কার করুন দিলীপ ঘোষকে। তার পরেই দিন ঘোরার আগেই মন্তব্য করে বসলেন রাহুল সিনহা। কার্যত একের পর এক দলীয় নেতাদের এহেন মন্তব্যে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।







