বাংলাদেশে ক্রমেই কমছে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা। উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খিস্টান ইত্যাদি ধর্মের মানুষেরা। বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, বিগত এক বছরে সাম্প্রদায়িক হিংসার শিকার ১ হাজার ৪৫ জন। যাদের মধ্যে খুন হয়েছেন ৪৫ জনের। এই বিষয়টি নিয়ে সোমবার বাংলাদেশের জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্যরা।
এই সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাণা দাশগুপ্ত বলেছেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ছিল প্রায় ১৯ শতাংশ। এখন তা ৮.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চার পরিবেশ একেবারেই নেই বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এখানেই প্রশ্ন, কেন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা কমছে? আগামী দিনে তারা কি নিজেদের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি দেবেন? এই আশঙ্কাও ক্রমশ সামনে আসতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে সাম্প্রদায়িক হিংসায় হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৪৫টি। যদিও মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে ৭টি। পাশাপাশি, ১০ জনকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। ৩৬ জনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক হিংসায় ৪৭৯ জন হামলায় জখম হয়েছেন।
এক বছরে 45 জন খুন! বাংলাদেশে হিন্দুদের অবস্থা সঙ্কটজনক

আরও জানা গিয়েছে, ১১ জনের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদার দাবি করা হয়েছে। ১০২টি ক্ষেত্রে বাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুঠপাট, হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনা হয়েছে। ৪০টি জায়গায় নানান উৎসবে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। ১২টি ক্ষেত্রে অপহরণ, নিখোঁজ, জোর করে ধর্মান্তকরণের ঘটনা হয়েছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ সব মিলিয়ে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এমনকী সম্প্রতি বাংলাদেশে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল তাতে ৩২টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে।



