নজরবন্দি ব্যুরোঃ বকেয়া টাকার দাবিতে সোচ্চার মুখ্যমন্ত্রী,কেন্দ্রের সঙ্গে একযোগে টিকা দিতে সম্মত রাজ্য ।বকেয়া টাকার দাবিতে সোচ্চার মুখ্যমন্ত্রী। করোনা লড়াইয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা সেরকম পাওয়া যায়নি বলেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা পর্বে রাজ্য ইতিমধ্যেই ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। কেন্দ্রের কাছ থেকে এর মধ্যে মিলেছে মাত্র ১৯৩ কোটি টাকা।
আরও পড়ুনঃদিলীপের পরিকল্পনায় জল ঢেলে স্বমহিমায় ছত্রধর


জিএসটি বাবদ এখনও বকেয়া রয়েছে সাড়ে ৮ কোটি টাকা। সেই টাকা কেন্দ্র দিক।’ একইসঙ্গে তিনি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘দুর্গা, কালী আর ছট পুজোর মতো উত্সব পালন করা হয়েছে রাজ্যে। পুরোটাই হয়েছে সমস্ত বিধিনিষেধ মেনেই। সেইসঙ্গে চালু হয়েছে লোকাল ট্রেনও। তা সত্ত্বেও সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার কমেছে রাজ্যে। সুস্থতার হারও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত রাজ্য, বাইরে থেকে প্রচুর লোক আসা যাওয়া করে। তাই আক্রান্তের সংখ্যা বেশ খানিকটা বাড়লেও তা এখনও নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, “মানুষ ভাবছেন যে কোভিত-১৯ মহামারী শেষ হয়ে গিয়েছে। শুধু উত্তর ২৪ পরগনার মানুষ মাস্ক পরছেন। বাঁকুড়ায় কেউ সতর্ক হচ্ছেন না। কারণ তাঁরা মনে করছেন যে মহামারী চলে গিয়েছে”।
জনস্বাস্থ্য সম্বন্ধে মানুষকে সচেতন করতে আশাকর্মীরা প্রায় ৪৫ কোটি বাড়িতে গিয়েছেন বলে এদিন বৈঠকে উল্লেখ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যে কোনও রকমের টিকাকরণ প্রোগ্রামের জন্য পশ্চিমবঙ্গ পুরোপুরি তৈরি। প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মী এবং সবরকম পরিকাঠামো আছে রাজ্যের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে এবং অন্য যে কোনও সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ভ্যাকসিন আসার পরেই তা যাতে যত দ্রুত সম্ভব সকলের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করাটাই আমাদের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য।’
মোদীর সঙ্গে বৈঠকে মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, “সারা দেশে করোনার টিকার দিকে তাকিয়ে আছে। অতিমারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে টিকাকরণ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গও প্রস্তুত আছে। টিকাকরণের জন্য রাজ্য়ে প্রশিক্ষিত দক্ষ ব্যক্তি ও পরিকাঠামো প্রস্তুত। যত দ্রুত ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে, কেন্দ্র ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে তত তাড়াতাড়িই কাজ শুরু করে দেবে বাংলা। যাতে সবাই দ্রুত ভ্যাকসিন পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।” জেলা সফরে বর্তমানে বাঁকুড়ায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


বাঁকুড়া সার্কিট হাউজ থেকেই এদিন ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্বাস্থ্যসচিব। অন্যদিকে, কেন্দ্রের তরফে এদিন উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন, নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) তথা কেন্দ্রের কোভিড টাস্ক ফোর্সের প্রধান ভি কে পাল-সহ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিকরা।
বকেয়া টাকার দাবিতে সোচ্চার মুখ্যমন্ত্রী,কেন্দ্রের সঙ্গে একযোগে টিকা দিতে সম্মত রাজ্য ।প্রসঙ্গত, আজ বৈঠকের আগে গতকালই কোভিড টিকা নিয়ে খাতড়ার প্রশাসনিক সভামঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “ইঞ্জেকশন দেওয়ার নামে নাটক করছে। ইঞ্জেকশন আসতে আসতে ৮ মাস লেগে যাবে। ইঞ্জেকশন আমরাও দিতে পারি। শুধু বলো, কার থেকে নিতে হবে?”







