নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষক নিয়োগে যে বেলাগাম দুর্নীতি হয়েছে তা রাজ্যের ইতিহাসে বিরল। স্বাধীনতার পর এত বড় দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ঘুষ দিয়ে বেলাইনে নিয়োগ পেয়ে ইতিমধ্যেই চাকরি চলে গেছে ২৬৯ জনের। আর সব কিছুর কেন্দ্রে যে মানুষটির নাম উঠে আসছে তিনি হলে মাণিক ভট্টাচার্য। আজ আদালতে সেই মাণিক ভট্টাচার্যকে কার্যত তুলোধনা করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ হাইকোর্টে খারিজ হলনা CBI তদন্ত, খাদের কিনারায় ১৭ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য
একের প্রর এক প্রশ্ন করা হয় মাণিক কে। জানতে চাওয়া হয় তাঁর পেশা থেকে শুরু করে জীবন কুণ্ডলী। শেষে বিচারপতি সাফ জানিয়েদেন, নিজের সঙ্গে সঙ্গে মাণিক বাবুর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ের (বিয়ের আগের) মোট স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব আদালতে জমা দিতে হবে। এবং তা জমা দিতে হবে একবারেই। পরে কোন ভাবেই সেই হিসেবের সাথে কিছু যোগ বা বিয়োগ করা যাবেনা। এই মামলার শুনানি হবে আগামী ৫ই জুলাই।

সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে মানিক ভট্টাচার্যকে অপসারিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তারপরেই আজ সোসরিরে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাই কোর্টের বিচারপতি। এদিন মাণিক বাবু কোর্টে উপস্থিত হলে কার্যত ৪০ মিনিট তাঁকে জেরা করা হয় হাই কোর্টে।

কবে জন্ম, কোথায় জন্ম, পরিবারের কে কে আছেন, তাঁরা কী করেন, যাদবপুরে ফ্ল্যাট ছাড়া আর কোথায় জমি বাড়ি আছে। বিচারপতি জানার চেষ্টা করেন মাণিক ভট্টাচার্যের মোট সম্পত্তির পরিমান কত। সেই সম্পত্তি আয়ের সাথে কতটা সঙ্গতিহীন। এরপরতেই বিচারপতি নির্দেশ দেন মানিক ভট্টাচার্যের পরিবারের সবার সম্পত্তির হিসেব দিতে হবে কোলকাতা হাইকোর্টে এবং তা দিতে হবে একবারেই।
পরিবারের সম্পত্তির হিসেব চাইল হাইকোর্ট, সঙ্কটে মাণিক ভট্টাচার্য।

আজ নিয়োগ দর্নীতি মামলায় হাজিরা এড়াতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পর্ষদ সভাপতি। কিন্তু আদালত তাঁর মামলা শুনতে রাজি হয়নি। কাজেই আজ হাইকোর্টে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে হাজিরা দিতেই হবে তাঁকে। বিচারপতি সব্রত তালুকদারের বেঞ্চে পর্ষদের পক্ষ থেকে মামলা গ্রহনের আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত জানিয়েছে নিয়ম মেনে মামলা দায়ের করতে হবে তারপরেই ডিভিশন বেঞ্চ আবেদন গ্রহণ করবে।



