দেশজুড়ে ফের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দিল্লির লালকেল্লা ও চাঁদনি চক এলাকার একটি মন্দির-সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাকে নিশানা করার ছক কষছে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা। পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে এই সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেই সূত্রের খবর।


গত বছরের নভেম্বর মাসে দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী পর্যবেক্ষক দলের একটি রিপোর্টে জইশ-ই-মহম্মদের নাম উঠে আসে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও ওই রিপোর্টে জঙ্গি সংগঠনগুলির নতুন কৌশল, বিশেষ করে মহিলা সদস্যদের নিয়ে পৃথক নেটওয়ার্ক তৈরির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এরই মধ্যে লস্করকে ঘিরে নতুন হামলার আশঙ্কা সামনে আসায় নিরাপত্তা আরও কড়া করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে।
সূত্রের দাবি, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর থেকেই জঙ্গি সংগঠনগুলির তরফে প্রতিশোধমূলক বার্তা ঘুরতে শুরু করে। সেই ঘটনার জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং শতাধিক আহত হন। এরপর থেকেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সম্ভাব্য জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় স্থান বা ঐতিহাসিক স্থাপনাকে নিশানা করে হামলার চেষ্টা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করার কৌশল হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। তাই গুজব ছড়ানো বা অযাচিত তথ্য প্রচার না করে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।







