যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবারের ঘটনার পর এখন থমথমে পরিস্থিতি। শনিবারের অশান্তি নিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে পাঁচটি এফআইআর দায়ের করেছে, যার মধ্যে তিনটি ওয়েবকুপার তরফে দায়ের হয়েছে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগে। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে ছাত্রদের তরফে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা: বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ
শনিবার ওয়েবকুপার বার্ষিক সম্মেলনে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর আগমনকে কেন্দ্র করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো বিক্ষোভ শুরু করে। এসএফআই, আইসা, ডিএসএফ সদস্যরা “গোব্যাক” স্লোগান দিয়ে মন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর পরই অশান্তি শুরু হয় এবং মন্ত্রীর গাড়ির টায়ার পাংচার করার অভিযোগ ওঠে। তাছাড়া, ব্রাত্য বসুর পাইলট গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি একজন ছাত্রকে চাপা দেয়ার অভিযোগও উঠেছে, ফলে ছাত্রটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং তার বাঁ চোখ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাতভর উত্তেজনা: উপাচার্যকে হেনস্থা এবং আগুন লাগানোর ঘটনা
রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ওয়েবকুপার সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে এক ছাত্র আহত হয়েছে। তৃণমূল সমর্থিত কর্মী সংগঠন ‘শিক্ষাবন্ধু’ অফিসে রাত সাড়ে ৯টায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে, তবে কিভাবে আগুন লাগল তা এখনও স্পষ্ট নয়। এছাড়া, কেপিসি হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তকে হেনস্থার অভিযোগও ওঠে। তার পাঞ্জাবিও টানাটানিতে ছেঁড়া হয়ে যায়।
বিক্ষোভের মুখে যাদবপুর: ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ ও আগামী কর্মসূচি
এদিকে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি শনিবারের ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমে আসে। এসএফআই রাজ্যের সব কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সোমবার রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার বিকেলে সুকান্ত সেতু থেকে প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি রয়েছে। তবে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কর্মসূচি জানানো হয়নি।
নতুন করে উত্তেজনা ঠেকাতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ
পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তৎপর রয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছে যে নতুন করে উত্তেজনা যাতে না ছড়ায়, সেই দিকে নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বের করার চেষ্টা করছে।



