সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পুরসভা-পঞ্চায়েতের কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে এবার রাজ্যের কাছে স্পষ্ট জবাব চাইল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং ২০০৯ সালের রোপা রুল অনুযায়ী প্রাপ্য ডিএ এখনও না মেলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় রাজ্যের অর্থ দফতরের রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা (Amrita Sinha)।
শুক্রবার এবিটিএ (ABTA)-র দায়ের করা মামলার শুনানিতে আদালত জানতে চেয়েছে, বকেয়া ডিএ কবে দেওয়া হবে এবং কীভাবে সেই অর্থ মেটানো হবে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
মামলাকারীদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও সরকার পোষিত স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট নয়। এবিটিএ-র আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, ২০০৯ সালের রোপা রুল অনুযায়ী যে মহার্ঘ ভাতা প্রাপ্য, সেটিও এখনও পুরোপুরি দেওয়া হয়নি।
রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, সরকার পোষিত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ঘোষিত ডিএ দেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি অর্থ দফতর। এই বক্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে আদালত রাজ্যের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। রিপোর্টে শুধু ডিএ দেওয়া হবে কি না নয়, দেওয়া হলে কীভাবে এবং কবে দেওয়া হবে, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।
এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ বকেয়া ডিএ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া চলছে। সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার একটি অংশ ইতিমধ্যে মেটানো হয়েছে এবং বাকি অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে একটি কমিটির মাধ্যমেও প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু সরকার পোষিত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে সেই পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়।
এবিটিএ-র মামলার শুনানিতে সেই পার্থক্যের বিষয়টিই সামনে এসেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে রাজ্যের তরফে নির্দিষ্ট রূপরেখা জানানো হয়নি। ফলে আদালতের কাছে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করার আবেদন জানানো হয়।
এখন নজর ১৭ সেপ্টেম্বরের দিকে। ওই দিনের মধ্যে রাজ্য কী রিপোর্ট দেয়, বকেয়া ডিএ মেটানোর কোনও সময়সীমা জানায় কি না এবং অর্থ দফতর কী পরিকল্পনা পেশ করে, তার উপরই পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে। আপাতত কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যের জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল।



