দালাল চক্রের কান ধরে দুর্নীতির মাথা পর্যন্ত পৌঁছাক সরকার, মমতাকে আবেদন শিক্ষক পদপ্রার্থীদের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ  দালাল চক্রের কান ধরে দুর্নীতির মাথা পর্যন্ত পৌঁছাক সরকার, মমতাকে আবেদন শিক্ষক পদপ্রার্থীদের। নবম – দ্বাদশ স্তরের শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি ধরিয়ে দিতে লোকসভা নির্বাচনের আগে  যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের যোদ্ধারা ২৯ দিন যাবৎ অনশন আন্দোলন করেছিল প্রেস ক্লাবের সামনে। মুখ্যমন্ত্রী এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ন্যায় প্রদান করা হবে।

আরও পড়ুনঃ দীপাবলি পর্যন্ত দেশের মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেবে কেন্দ্র! জাতির উদ্দেশ্যে ঘোষণা মোদির

কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর বিধানসভার নির্বাচনও পেরিয়ে গিয়েছে রাজ্যে। এখনো চাকরি পাননি তাঁরা। বারবার নিজেদের অধিকারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন, আবেদন জানিয়েছেন বিভিন্ন ভাবে। তবে এখনো পর্যন্ত ফলাফল আসেনি তাতে।  প্রেস ক্লাবের সামনে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীরর প্রতিশ্রুতিতে শিক্ষক শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখে আমরা এখনো প্রহর গুনছেন তাঁরা এখনও।

শিক্ষক পদ প্রার্থীদের একজন জানিয়েছেন, “নবম – দ্বাদশ স্তরের শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি ধরিয়ে দিতে আমরা যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের যোদ্ধারা ২৯ দিন যাবৎ অনশন আন্দোলন করেছিলাম।সেই মঞ্চে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এসে আমাদের ” ন্যায় পাইয়ে ” দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আমাদের মধ্যে থেকে তিনি সরকারি ভাবে একটা প্রতিনিধি টিম তৈরী করে দিয়েছিলেন। ( যার কাজ ছিলো সরকারের কাছে আমাদের দাবি ও দুর্নীতির কারণে আমাদের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরা।) কিন্তু শিক্ষা দপ্তর সুকৌশলে সেই প্রতিনিধি টিম, তাদের স্ত্রী ও আত্মীয় দের দুর্নীতিগ্রস্ত ভাবে নিয়োগ করে দিলো,আন্দোলন কে থামিয়ে দিতে।

যে অনশন মঞ্চে এসে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতির কথা স্বীকার করে শিক্ষা দপ্তর কে ঘুঘুর বাসা আখ্যা দিয়েছিলেন এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলেছিলেন, তা নেওয়া হয়নি। উপরন্তু আন্দোলন কে শেষ করে দিতে এবং দুর্নীতিকে চাপা দিতে আন্দোলনের প্রতিনিধি ও তাদের আত্মীয় দের চাকরি দেওয়া হলো। শুধু তাই নয় লক ডাউন পিরিয়ডে  অবৈধ ভাবে অজস্র নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যার অনেক প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। এমনকি প্যানেলে নাম না থাকা দেরও অবৈধ ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে।দুর্নীতির সাতকাহনের অজস্র প্রমান আমাদের কাছে রয়েছে ।যে দালালের ভয়েস ক্লিপ আপনারা শুনছেন তারও ইতিবৃত্ত আমাদের কাছে আছে।”

এই পরিস্থিতিতে তাঁদের দাবী, সরকার অবিলম্বে যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের সাথে সাক্ষাৎ করে এই প্রমান গ্রহণ করুক এবং এই দালাল চক্রের কান ধরে দুর্নীতির মাথা পর্যন্ত পৌঁছাক। সঙ্গে তাঁরা জানিয়েছেন, ” এই দুর্নীতির প্রমান যথাযথ ভাবে তুলে দিতে না পারলে যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের প্রত্যেক সদস্য সহ, মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা,কনভেনার সজল কুমার দে,রণজয় সেন গুপ্তা মেহেবুব মন্ডল সকলে ফাঁসির শাস্তি নিতে রাজি আছি।” আরও অভিযোগ করেছেন  দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে যুক্ত তাই নানাভাবে নির্দোষ প্রার্থীদের ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

শিক্ষক পদপ্রার্থীরা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আপনি বর্তমানে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এর অন্যতম মুখ ও বিকল্প প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী হতে চলেছেন। এই লড়াই এ বেকারত্ব এবং দুর্নীতি বড় ইস্যু, যার কারনে যুব সমাজ প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত – যন্ত্রনাবিদ্ধএবং প্রতারিত হচ্ছে। যুব সমাজ কে এই লড়াই এ পাশে পেতে হলে আপনাকে একদিকে বেকারত্বের এই সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং দুর্নীতির যে কালো দাগ রাজ্যের কপালে লেগেছে এটাকে পরিষ্কার করতে হবে। তাই আপনার কাছে অনুরোধ আপনার ” ন্যায়প্রদানে”র প্রতিশ্রুতি পূরণ করুন। দুর্নীতির তদন্ত করে দুর্নীতির মূল উৎপাটিত করে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের নিয়োগ করুন। রাজ্যে দৃষ্টান্ত হলে দেশের সিংহাসনে বসার লড়াই এ যুব ছাত্র দের পাশে পাবেন।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর