নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যের নয়া বিধিনিষেধ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতাকে ‘তুঘলক’ বলে কটাক্ষ তথাগতর। টানা লকডাউনের ফলে গোটা দেশের মতই এই রাজ্যেও করোনা সঙ্ক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী একে ‘বিধিনিষেধ’ আখ্যা দিয়েছেন। তবে এ রাজ্যে সংক্রমণ অনেকটাই কমে এলেও কোন ঝুঁকি নিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী আগামী ৩০ শে জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন এই বিধিনিষেধ। যদিও বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। দোকান বাজার থেকে রেস্টুরেন্ট পানশালা সবই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খুলে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ হাফের বদলে ফুল ছুটি! জামাইষষ্ঠী তে পুর্ণ ছুটি ঘোষণা নবান্ন’র।
সরকারি বেসরকারি অফিসগুলিও ২৫ শতাংস কর্মী নিয়ে খোলার অনুমতি পেয়েছে। এমন অবস্থায় কিন্তু ট্রেন বাস থেকে মেট্রো কোনরকম গনপরিবহন চালানোর অনুমতি দেননি তিনি। তারপর থেকে নানা মহলেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। সকলেরই বক্তব্য, অফিসকাছাড়ি শপিং মল রেস্টুরেন্ট সব খোলা অথচ সেখানে পৌঁছনোর উপায় নেই। পরিবহণ বন্ধ। এটা কীভাবে সম্ভব? নেট মাধ্যমেও সমালোচনা খোরাকের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে গতকাল তিনি বলেছিলেন, অফিস খোলা থাকলে সেখানে কর্মীদের পৌঁছনোর ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষকেই করতে হবে। আর এবার একই বিষয় নিয়ে নাম না করে মমতাকে মহম্মদ বিন তুঘলক বলে কটাক্ষ করলেন প্রবীন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। এমনিতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্তিভ। সেখানে একের পর এক টুইট করে বিতর্ক বাধিয়ে বসেন। তবে তাতেও নেই কুছপরোয়া। এবার একইভাবে আক্রমন শানালেন মমতার দিকে।
গতকাল এই ব্যাপারে তিনি লেখেন “মুখ্যমন্ত্রী লকডাউনে ‘ছাড়’ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। বাজার-হাট খোলা থাকবে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। বাকি দোকান আর শপিং মল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে। বেসরকারি অফিসকাছারিও সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা। কিন্তু গণপরিবহণ বন্ধ। রোগী নিয়ে যাওয়া-আসা ছাড়া কোনও বাস, ট্রাম, মেট্রো, লোকাল ট্রেন, ট্যাক্সি, অটো কিছু চলবে না।” এরপরই মমতার নাম না করেই তিনি পোস্টের তলায় হ্যাশট্যাগ দিয়ে লেখেন ‘মহম্মদ বিন তুঘলক’। ইতিহাসে দেশ চালানোর সময় একাধিক হঠকারী যুক্তিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পরিচিত মহম্মদ বিন তুঘলক।
রাজ্যের নয়া বিধিনিষেধ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতাকে ‘তুঘলক’ বলে কটাক্ষ তথাগতর। নিজের জীবদ্দশাতেই এর জন্য বহু সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। তাই হটকারী সিদ্ধান্তের সময় তাঁকে তুলনা হিসেবে টানা হয়। যদিও তৃণমূলের তরফ থেকে এখনও এই ব্যাপারে কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি।



