বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতার আবহে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি-র মৃত্যু ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যে তিনি হাদির শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন।
হাদির মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর থেকেই বাংলাদেশ জুড়ে অশান্তির ছবি ধরা পড়েছে। এর আগেও পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন তসলিমা। এ বার তিনি সরাসরি হাদিকে লক্ষ্য করে বলেন, মাদ্রাসা থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত বা সভ্য হয়ে ওঠে না—এমনটাই তাঁর মত। এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

লেখিকার বক্তব্যে উঠে আসে, হাদির নাম বা পরিচয় তাঁর কাছে আগে তেমন পরিচিত ছিল না। মৃত্যুর পর বিভিন্ন ভিডিও ও বক্তব্য দেখে তিনি হাদির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা তৈরি করেছেন বলে দাবি করেন। তসলিমার মতে, সেই ভিডিওগুলিতে তিনি অর্থ লেনদেন, গালিগালাজ ও ভারতবিরোধী স্লোগানের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন—যা তাঁকে বিচলিত করেছে।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তসলিমা। তাঁর বক্তব্য, মাদ্রাসা থেকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের বিষয়টি একসময় কল্পনাতীত ছিল। অথচ হাদির মতো ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা—এই বাস্তবতা তাঁকে বিস্মিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের শিক্ষাগত পথচলা শিক্ষার মান ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।
বর্তমান সহিংসতা প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিনের মত, যারা উগ্র মতাদর্শ ও ভারতবিরোধিতার আবেগে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের দিয়ে একটি আলোকিত রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এই প্রবণতা সমাজকে যান্ত্রিক ও চিন্তাহীন করে তুলছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাষ্ট্রনির্মাণের পক্ষে ক্ষতিকর।


তসলিমার এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও বৌদ্ধিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেমন তাঁর বক্তব্যকে কড়া ভাষার জন্য সমালোচনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে উগ্রতা ও শিক্ষার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনাও নতুন করে সামনে এসেছে।








