দীপু হত্যাকাণ্ডে ভারতের বক্তব্যে আপত্তি বাংলাদেশের! পাল্টা বিবৃতি জারি অন্তর্বর্তী সরকারের

ময়মনসিংহে দীপু দাস হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভারতের উদ্বেগপ্রকাশের পরই কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ঢাকার; ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন অপরাধ’ বলে দাবি অন্তর্বর্তী সরকারের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের ময়মনসিংহে এক যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে কূটনৈতিক টানাপড়েন স্পষ্ট। ওই ঘটনায় ভারতের উদ্বেগপ্রকাশ ও বিবৃতির পরই আপত্তি জানাল বাংলাদেশ। ঢাকার বক্তব্য, ময়মনসিংহের ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ, একে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ হিসেবে দেখানো অনুচিত। রবিবার সন্ধ্যায় এই মর্মে পাল্টা বিবৃতি জারি করে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক

গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা ছড়ায়। সেই আবহেই ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার দুপুরে বিবৃতি দেয় ভারত সরকার— হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলে নয়াদিল্লি, পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানায়।

Shamim Ahamed Ads

ভারতের ওই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা অবস্থান নেয় ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকার। মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, ময়মনসিংহের ঘটনাকে সামগ্রিক সাম্প্রদায়িক হামলার প্রেক্ষিতে টানা ঠিক নয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৭ বছরের দীপু ময়মনসিংহে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে অশান্তির মধ্যে উন্মত্ত জনতার হাতে তিনি আক্রান্ত হন। অভিযোগ, পিটিয়ে হত্যার পর তাঁর দেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরানো হয়। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য স্পষ্ট— যেখানে নয়াদিল্লি ঘটনাটিকে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার বৃহত্তর প্রেক্ষিতে দেখছে, সেখানে ঢাকা জোর দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে দ্রুত পদক্ষেপ ও বিচ্ছিন্ন অপরাধের ব্যাখ্যার উপর। কূটনৈতিক মহলের মতে, তদন্তের অগ্রগতি ও বিচারপ্রক্রিয়ার গতিপথই আগামী দিনে এই বিতর্কের সুর নির্ধারণ করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত