ভারতীয়দের ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বাতিল করবে বাংলাদেশ? দিল্লির বিরুদ্ধে আদালতে যাবে ঢাকা? কী দাবি হাদির সংগঠনের

হাদি হত্যার বিচার চেয়ে ঢাকার শাহবাগে কড়া দাবি ইনকিলাব মঞ্চের, ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল ও দিল্লির বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার চাপ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের তীব্র উত্তাপ। নিহত নেতা ওসমান হাদির হত্যার বিচারকে সামনে রেখে ভারত-বিরোধী কড়া সুরে চাপ বাড়াল ইনকিলাব মঞ্চ। ঢাকার শাহবাগে ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ কর্মসূচি থেকে একাধিক দাবির ঘোষণা করে সংগঠনটি—যার মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত দাবি, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল এবং নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার আহ্বান। অন্তর্বর্তী সরকারের উপর সময় বেঁধে চাপ সৃষ্টি করায় নতুন করে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে আলোচনার ঝড়।

রবিবার রাতে (বাংলাদেশের স্থানীয় সময়) ঢাকার শাহবাগ চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির আহ্বায়ক ছিলেন নিহত ওসমান হাদি। মঞ্চের বক্তব্য, হাদির হত্যার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার সম্পন্ন করতে হবে—এটাই তাদের প্রধান দাবি। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, এই বিচার অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই শেষ করতে হবে।

ইনকিলাব মঞ্চের বাকি দাবিগুলির বড় অংশই ভারতকে কেন্দ্র করে। সংগঠনটির দাবি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে দেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের কাজের অনুমতি বা ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বাতিল করা হোক। তাদের যুক্তি, বিদেশি প্রভাব থেকে প্রশাসন ও অর্থনীতিকে মুক্ত করতেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তৃতীয় দাবিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে সংগঠনটি বলেছে, ভারত যদি শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করে, তবে ঢাকাকে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে হবে। এই দাবির মাধ্যমে সরাসরি কূটনৈতিক সংঘাতের পথেও হাঁটার বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

চতুর্থ দাবিতে সংগঠনটির অভিযোগ, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে ‘বিরোধী বক্তব্য’ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এই সব আধিকারিকদের বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা মহলে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতির অভিযোগ তুলে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবিও জানানো হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের স্পষ্ট করে বলেছেন, “আগামী ২৪ কার্যদিবসের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার করে বিচার সম্পন্ন করাই আমাদের প্রধান দাবি। বাকি দাবিগুলিও এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই মানতে হবে।” যদিও রবিবার রাতেই ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়, তবে আন্দোলন থামছে না বলেই ইঙ্গিত।

নতুন কর্মসূচি হিসেবে সোমবার দুপুর ২টায় ঢাকার শাহবাগে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার পড়ুয়াদের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনের বক্তব্য, বিচার না-হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। সরকারি উদ্যোগে তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও ছ’দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরই বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। সরকারি ও সাংস্কৃতিক ভবন, সংবাদমাধ্যমের দফতরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পুলিশ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ এখনও পলাতক। ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রবিবার মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, হাদি-হত্যার বিচার অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই সম্পন্ন হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর